জাতিসংঘ-মিয়ানমার গোপন চুক্তি?

পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার,

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সোমবার এক বিবৃতিতে একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সম্প্রতি মিয়ানমারের সঙ্গে গোপন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতিসংঘের উন্নয়নবিষয়ক অঙ্গ সংস্থা ইউএনডিপি এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

এ চুক্তির কোনো তথ্য বাইরে প্রকাশ করা হয়নি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যমতে উল্লিখিত সমঝোতা স্মারক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাচল ও ‘মিয়ানমারের স্বাধীন নাগরিক’ হিসেবে তাদের অধিকার লাভের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এ ধরনের চুক্তি বাস্তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে পদদলিত করে তাদের চিরতরে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমরা মনে করি, জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ওই অঙ্গ সংস্থা দুটির সঙ্গে মিয়ানমারের কোনো গোপন চুক্তি হয়ে থাকলে তা অবিলম্বে প্রকাশ করা উচিত। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক প্রয়াস চালানো প্রয়োজন। জাতিসংঘ হল বিশ্ব সংস্থা, তার সঙ্গে কোনো দেশের গোপন চুক্তি হওয়া শুধু অনৈতিক নয়, এ সংস্থার মূলনীতিরও পরিপন্থী।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের আদি নিবাসী উল্লেখ করে অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নেয়ার এবং সংঘটিত অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের এই চাপ আরও বাড়াতে হবে যাতে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কী করা উচিত তা মিয়ানমার বুঝতে পারে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের গোপন সমঝোতা তার এসব বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ অবস্থায় জাতিসংঘের উচিত স্বচ্ছতার প্রয়োজনেই মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তির খুঁটিনাটি প্রকাশ করা। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সম্প্রতি তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার আগেই জাতিসংঘের মিয়ানমার মিশন এ ধরনের একটি ঘটনার আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিল। কিন্তু ওই রিপোর্ট ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। এ তথ্যও উদ্বেগজনক এবং তা জাতিসংঘের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বস্তুত রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি এবং তা সমাধানে এ পর্যন্ত জাতিসংঘের নেয়া পদক্ষেপগুলো সন্তোষজনক নয়। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর দৃঢ় ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেই ভূমিকা পালন করেনি। জাতিসংঘ এর দায় এড়াতে পারে কি? মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করার পরও এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের ব্যর্থতাই প্রকাশ পেয়েছে।

এটা ঠিক, বিশ্ব সংস্থার ‘হাত-পা’ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কাছে বাঁধা। আর্থিকভাবে সংস্থাটি বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তাই প্রশ্ন, মিয়ানমারের নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে পুঁজি করে অর্থ সংগ্রহ করাই কি সংস্থাটির উদ্দেশ্য? যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের সঙ্গে তার গোপন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য অবিলম্বে প্রকাশ করা হোক। আমরা রোহিঙ্গা সংকট সমাধান নিয়ে জাতিসংঘের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে চাই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter