অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ

আওয়ামী লীগের চাওয়া যেন আন্তরিক হয়

  যুগান্তর ডেস্ক    ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন কমিশন লোগো
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হয় তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।

মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে উপস্থিত ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যরা আগামী নির্বাচন ও আমাদের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারটিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন এমন একটি সেমিনার ভালো উদ্যোগ; তবে এতে বিএনপিরও একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকলে আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত ও বড় দলগুলোর মুখোমুখি বসে কথা বলার উদাহরণ তৈরি হতে পারত।

যাহোক, সেমিনারটিতে উপস্থিত ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা বলেছেন, তারা চান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক। আশার কথা, সেমিনারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটিও চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের আশাবাদ- আওয়ামী লীগের এ চাওয়া আন্তরিক হোক এবং সরকারি দল হিসেবে এর পক্ষে নানা উদ্যোগ নিয়ে দলটি এগিয়ে আসুক।

তাহলে ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর মতো একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন আমাদের আর দেখতে হবে না। গণতান্ত্রিক চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হলে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে বিকল্প নেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ কারণে শাসক দলের অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলকে খোলা মন নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

শুধু যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে তা-ই নয়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ আমাদের উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশ এবং সংস্থাও একই বিষয়ে জোর দিয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং পর্যায়ক্রমে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চেতনা ও মূল্যবোধও উন্নত করার বিকল্প নেই।

এ অবস্থায় উন্নয়ন সহযোগীদের আহ্বান-উপদেশ আমলে নেয়া দরকার। মুখে গণতন্ত্র এবং সুশাসনের কথা বললেও যে কোনো মূল্যে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রচেষ্টা আমাদের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা যায়। অথচ গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনা হল মানুষের চাওয়াকে প্রাধান্য দেয়া, এমনকি হেরে গেলেও জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পরবর্তী সময়ে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করা। তাহলেই দেশ ও জনগণ দ্রুত উন্নতির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সেমিনারটিতে বাংলাদেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতির প্রশংসা পাওয়া গেছে। এখন আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণে ইইউর গুরুত্বারোপ ও আওয়ামী লীগের চাওয়ার বাস্তবায়ন ঘটানোর সময়।

আমরা আশা করব, নির্বাচনে অংশ না নেয়ার মতো বড় ভুল বিএনপি যেমন আর না করার চেষ্টা করবে, তেমনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনের মতো ভুল পথে পা বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে।

শুধু মুখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বুলি না আওড়িয়ে বাস্তবে তা নিশ্চিত করার পথে এগোনোর দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল ও মূল খেলোয়াড় তথা নির্বাচন কমিশন দ্রুত কাজ শুরু করেছে- এমনটিই দেখতে চায় দেশের জনগণ এবং উন্নয়ন সহযোগীরা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.