নারীর অধিকারে মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর অধিকারে মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

গতকাল ছিল বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। জনসংখ্যা ও উন্নয়নবিষয়ক বক্তৃতা, র‌্যালি, সেমিনার ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়েছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘পরিকল্পিত পরিবার, সুরক্ষিত মানবাধিকার’।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ৫৯ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। আর ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীর মধ্যে অন্তত ৩১ ভাগ প্রথম বা দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হন। উদ্বেগজনক তথ্য হল, দেশে এখনও পরিবার থেকেই কন্যাশিশুর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

শুধু বাল্যবিবাহ নয়, পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বাবা-মা কিংবা শ্বশুর-শাশুড়িসহ অন্য কেউ চাপিয়ে দিলে তাও অধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে। প্রায় ৫০ বছর আগে মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিবার পরিকল্পনাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর অনেক অধিকারের ভিত্তি হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে বিবেচনা করা হয়, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেশন দ্বারা সমর্থিত। এ প্রেক্ষাপটে কোনো দম্পতি মুক্ত ও স্বাধীনভাবে সন্তান গ্রহণ ও বিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই কাম্য।

মানবসভ্যতাকে আজকের পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে নারীর বিরাট অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। ১৯৭২ সালে নবগঠিত রাষ্ট্র বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে তদানীন্তন সরকার নারী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করে।

শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নারীর অধিকার ও উন্নয়ন আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কনভেনশনে অংশগ্রহণ এবং সমর্থন প্রদান করেছে। এ অবস্থায় বিয়ে ও বিয়ের পর সন্তান নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকারহীনতাসহ নানাভাবে এ দেশের নারীদের বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার বিষয়টি কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না।

এটি আজ ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে, নারীর অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নততর স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষা প্রসারে অবদান রাখে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের নিগড়ে তাদের বন্দি রেখে এ জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধির মধ্য দিয়ে আমরা নারীর অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হব, এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter