ফুটবল উন্মাদনার দেশে ফুটবলের দুর্দশা

  কামরুল হাসান শাকিম ১৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটবল উন্মাদনা
ফাইল ছবি

আবেগপ্রবণ জাতি হিসেবে পরিচিত আমাদের দেশের মানুষ ফুটবল কত ভালোবাসে তা বিশ্বকাপ চলাকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকেই উপলব্ধি করা যায়। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের কৃষক শ্রেণী থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল।

বিশ্বকাপ চলাকালীন অলিগলিতে পর্দা লাগিয়ে এলাকার সবাই একসঙ্গে দল বেঁধে খেলা দেখা, রিকশা, বিভিন্ন গাড়ি, বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে পছন্দের দলের পতাকা টাঙানো, বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মিছিল, পছন্দের খেলোয়াড়ের নামাঙ্কিত জার্সি পরা ইত্যাদি ফুটবলের প্রতি এ দেশের মানুষের আবেগের প্রকাশ।

এদেশের সর্বস্তরের মানুষ ফুটবলপ্রেমী হলেও অপ্রিয় হলেও সত্য, ফিফা র‌্যাংকিংয়ে নিজ দলের অবস্থান তলানিতে। অথচ র‌্যাংকিংয়ে একসময় বাংলাদেশের থেকে পিছিয়ে থাকা দেশ পানামা এবার বিশ্বকাপ খেলেছে।

১৯৯৩ সালে ফিফা র‌্যাংকিং চালু হওয়ার পর পরবর্তী তিন বছর বাংলাদেশ পানামা থেকে এগিয়ে ছিল। পরে পানামা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে গেলেও কাছাকাছি অবস্থানেই ছিল।

এর পর র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে পিছিয়ে যেতে থাকে। ২০১১ সালে কিছুটা উন্নতি হলেও এখন পর্যন্ত তলানিতেই রয়ে গেছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ আগামী এক যুগেও বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে ।

একসময়কার সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ বর্তমানে সাফের অন্যান্য ফুটবল খেলুড়ে দেশ থেকেও পিছিয়ে পড়েছে। দেশের ফুটবলের এই দূরবস্থার জন্য অনেকেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নীতিনির্ধারকদের দায়ী করেন।

তাছাড়া বাফুফের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্বের খবর দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে আসছে। এছাড়া ক্লাবগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা, তৃণমূল থেকে ফুটবলার খুঁজে বের করার উদ্যোগ না নেয়া, ফুটবল শেখার কোনো একাডেমি না থাকা ইত্যাদি কারণে দেশে ফুটবল অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা ক্লাবগুলো, বিশেষ করে যারা পেশাদার লীগ চালায় বা যারা পেশাদার লীগ খেলে তারা এখন পর্যন্ত পেশাদার লীগের মূল বিষয়টিই মনে হয় বুঝতে পারেনি। পেশাদার ফুটবল কাঠামোর মানে হল ফুটবল একটা পণ্য। এ পণ্যটাকে কেনাবেচা করে লাভ-ক্ষতি বের করতে হবে।

সবসময় পণ্যের মান ধরে রেখে পণ্যের গুণাগুণ সবার মাঝে প্রচার করতে হবে। পণ্যের সুবিধা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রেখে নিয়মিত উৎপাদন করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে এর মাধ্যমে লাভ বের করতে হবে। এজন্য সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন। যেখানে পেশাদার ফুটবল লীগ হয়, সেখানে যেভাবে এ পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়, বাংলাদেশে তা করতে সবাই ব্যর্থ হচ্ছে। এটা বুঝতে আমাদের আর কতদিন লাগবে?

বিদেশি লীগগুলোতে দলগুলো সুন্দরভাবে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। সেজন্য তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। কারণ তারা আন্তরিকতার মাধ্যমে এগুলো করে। তাছাড়া বিদেশে ফুটবল খেলা হয় টার্ফে।

আমরা এখনও ফুটবল খেলছি সাবেকি ঘাসের মাঠে, যেখানে বৃষ্টি হলে মাঠে ফুটবলের গতি কমে যায়। ফুটবলের উন্নতি চাইলে এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে।

কামরুল হাসান শাকিম : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.