অভিনব পন্থায় অর্থ পাচার

বাংলাদেশ ব্যাংককে গা ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, তার একটি মাধ্যম নিয়ে গতকালের যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, পণ্য আমদানির নামে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।

ঘটনা ঘটছে এভাবে- ব্যাংকে এলসি (ঋণপত্র) খোলা হচ্ছে এবং তা খুলে পণ্যের দেনা শোধ করা হচ্ছে; কিন্তু পণ্য আসছে না। এলেও কনটেইনারে নির্ধারিত পণ্যের বদলে পাওয়া যাচ্ছে অন্যকিছু। এভাবে পণ্য না আসায় অথবা ঘোষিত পণ্যের বদলে অন্য পণ্য আসায় ব্যাংকের টাকা আদায় হচ্ছে না। অতঃপর ব্যাংক বাধ্যতামূলক ঋণ তৈরি করে এলসির দেনা শোধ করছে। অর্থাৎ এভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমেই পাচার হয়ে যাচ্ছে টাকা। অভিনব পদ্ধতি বটে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, এলসির বিপরীতে ভুয়া বিল অফ এন্ট্রি ব্যাংকে জমা দিয়ে পণ্য দেশে আনার প্রমাণ দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান, বাস্তবে পণ্য আসেনি। আবার অনেকে বিল অফ এন্ট্রি জমাই দেয়নি। যুগান্তরের রিপোর্টে কোন ব্যাংকের মাধ্যমে কোন কোন প্রতিষ্ঠান উপরোক্ত ফাঁকিবাজিতে বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তার একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে।

কথা হচ্ছে, এ ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা নতুন কিছু নয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ অনেক আগে থেকেই পৌনঃপুনিকভাবে এ ধরনের অভিযোগ করে আসছে; কিন্তু তাদের কথায় কান দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সঙ্গে একমত হয়ে আমরাও বলব, এ ধরনের টাকা পাচারের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিতে হবে দ্রুত ব্যবস্থা। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এমন অনেক ঘটনাই ধরা পড়েছে আগে; কিন্তু পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক, পণ্য আমদানির নামে টাকা পাচারের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে পাচারপ্রবণতা বেড়েছে এবং পাচারকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। আমরা বলব, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে ঘটনাগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠাতে হবে।

নির্বাচনের বছর টাকা পাচারের হার বেড়ে যায়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা ও অস্থিতিশীলতা এর কারণ। টাকা পাচারের এই অভিনব পন্থাটির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা গা ঝাড়া দিয়ে না উঠলে দেশের আর্থিক খাত মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে, সন্দেহ নেই।

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.