শিক্ষা পণ্য নয়, সম্পদ

  শাকিল আহমেদ ২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা
ফাইল ছবি

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, জাতি গঠনের প্রধান উপাদান। একটি শিক্ষিত জাতিই পারে পৃথিবীর বুকে স্বমহিমায় নিজেদের উদ্ভাসিত করতে। বিবেকবান মানুষ, সুনাগরিক, কর্তব্যপরায়ণ, দায়িত্ববান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষার বিকল্প নেই।

শিক্ষা হচ্ছে নৈতিকতা গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নৈতিকতা, সচ্চরিত্র ও সদগুণের মতো বৈশিষ্ট্য মানব চরিত্রকে সুষমামণ্ডিত করে তোলে।

দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে; কিন্তু সুনাগরিকের সংখ্যা বাড়ছে কি? জীবনে সাফল্যের মানদণ্ড শুধু রেজাল্ট নয়। ছাত্রদের জন্য ছাত্রজীবন হচ্ছে জীবন গড়ার ভিত্তি।

‘ছাত্রনং অধ্যয়নং তপঃ’, অর্থাৎ পড়াশোনাই ছাত্রদের মূল কর্তব্য হওয়া উচিত। কিন্তু স্বার্থান্বেষীদের কারণে, শক্তিমানদের কারণে ছাত্ররা তাদের মূল কর্তব্য থেকে দূরে সরে যায়। সেকালে জ্ঞানের সঙ্গে পুণ্যময় তথা নৈতিক জীবন কাম্য ছিল।

কিন্তু এখনকার প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে নীতি-নৈতিকতা, সেবা-আদর্শের শিক্ষা না দিয়ে র্স্বাথবাদী, সুবিধাবাদী, শক্তিবাদী শ্রেণীতে পরিণত করছে।

দেশের সিংহভাগ ছাত্রছাত্রীকে প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তে হয়। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো লেখাপড়া হয় না। অথচ যারা প্রতিষ্ঠানে পড়ান তারাই প্রাইভেট পড়ান। প্রতিষ্ঠানে ভালো পাঠদান করতে না পারলেও প্রাইভেট বা কোচিংয়ে ঠিকই ভালো পাঠদান করতে পারেন!

শিক্ষকদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না করার কারণে এটা হয়েছে। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড হলে শিক্ষকরা সেই মেরুদণ্ড নির্মাণের কারিগর। শিক্ষা যদি হয় ত্রুটিপূর্ণ আর শিক্ষকরা যদি হন অদক্ষ বা অবহেলিত, তাহলে তাদের তৈরি মেরুদণ্ড হবে ভঙ্গুর ও অকেজো।

দেশে আজকাল পাবলিক পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন ফাঁস যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কোচিং সেন্টার এবং কিছু অসাধু শিক্ষক এই ‘প্রশ্ন ফাঁস’ নামক ব্যবসার মূল পরিকল্পনাকারী।

তাদের মূল ক্রেতা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। সব অভিভাবকই চান তাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবে। তাই সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য পেতে অভিভাবকরাও অসাধু পন্থা অবলম্বন করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

যারা মনে করে ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে’, তাদের জীবন গড়ার ভিত্তি ভোগবাদ হতে বাধ্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন ছাত্রের মাসিক খরচের ৩০ শতাংশই চলে যায় কোচিং আর প্রাইভেটে।

শিক্ষা একটি সম্পদ। কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষা বর্তমানে ফলাফলনির্ভর একটি বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। সংবিধানে সবার জন্য সমশিক্ষার কথা বলা হলেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বত্র বাণিজ্যিকীকরণ লক্ষণীয়। টাকা দিয়ে এদেশে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়া যায় এটা আমাদের সবার জানা।

সম্প্রতি মিডিয়ার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায় জিপিএ-৫ এবং পাস নম্বরও! আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিচে নামতে নামতে এতটা তলানিতে গিয়েছে যে এখান থেকে নিচে নামা আর সম্ভব নয়। বরং এখান থেকে কিভাবে উপরে ওঠা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে।

মোট কথা, শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। জিপিএ-৫, পাসের হার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেই সেটাকে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি বলে না। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই উন্নতির মহাসড়কে বাংলাদেশের পথচলা সুগম হবে।

শাকিল আহমেদ : শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter