পাকিস্তানে নির্বাচন

ভিত্তি পাক গণতন্ত্র

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানে নির্বাচন
পাকিস্তানে নির্বাচনে ভোট প্রদানের দৃশ্য। ছবি: যুগান্তর

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত নির্বাচনের পুরো চিত্র পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মাত্র ৪৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন বলছে, ফল প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ার কারণ যান্ত্রিক জটিলতা। নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্লামেন্টের ১১৩ আসনে এগিয়ে আছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন এগিয়ে আছে ৬৪ আসনে। আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়ালের নেতৃত্বাধীন পিপিপি এগিয়ে আছে ৩৯ আসনে। ফলাফলের এ ধারা একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সরাসরি নির্বাচনের মোট আসন সংখ্যা ২৭৪ হলেও দুটি আসনে ভোট স্থগিত হওয়ায় ভোট দিয়েছেন ২৭২ আসনের ভোটাররা।

নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য নির্ধারিত বাকি ৭০টি আসন বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যানুপাতে বণ্টন হবে। কোনো দল ১৩৭ আসন না পেলে তাকে অন্য দল বা প্রার্থীদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে। সেদিক থেকে ইমরান খানের দলের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনাই বেশি।

তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এবং ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা ভোট গণনা প্রক্রিয়ার ওপর ছায়া ফেলেছে। ইতিমধ্যে বড় ধরনের কারচুপির অভিযোগ এনে প্রাপ্ত ফল প্রত্যাখ্যান করেছে নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন। দলটির মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেছেন, অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে ভোট গণনা চলেছে। একই অভিযোগ করেছেন পিপিপি নেতা মাওলা বক্স চান্দিও এবং আরও কয়েকটি দলের নেতা।

কোয়েটায় আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জনের প্রাণহানি ছাড়া মোটের ওপর নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে দেশটির কোনো কোনো স্থানে ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান, স্থানীয় পর্যায়ে সহিংসতা ইত্যাদির অভিযোগ উঠেছে।

পাকিস্তানের ৭১ বছরের ইতিহাসে এবার দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার আরেকটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যাচ্ছে। অবশ্য দেশটিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় বারবার সেনা হস্তক্ষেপের ইতিহাস থাকায় ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে বলা যাচ্ছে না প্রকৃতপক্ষে কী ঘটতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে অভিযোগ উঠেছে, ইমরান খানকে পেছন থেকে মদদ দিচ্ছে সেনাবাহিনী; আর তাই পরিকল্পিতভাবে হয়রান করা হয়েছে নওয়াজ শরিফের পরিবারকে।

ইমরানের দল পিটিআই-কে বলা হয়েছে ‘কিংস’ পার্টি। পাকিস্তান ক্রিকেটের ‘বরপুত্র’ হিসেবে খ্যাত ইমরান রাজনীতিতে নেমে নিজের ইমেজ বদলে ফেলেছেন অনেকটাই। ধর্মকে বর্ম হিসেবে ব্যবহার এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে সখ্য রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আংশিক ফল প্রকাশের পর অনেকেই তাকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ‘উজিরে আজম’ বলা শুরু করেছেন।

পাকিস্তানে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, আমরা চাইব বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তারা সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। নিজ দেশে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সফল হবে। কারণ পাকিস্তানের জঙ্গিবাদের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোকেও আকীর্ণ করে। সর্বোপরি আমাদের প্রত্যাশা, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভিত দৃঢ় হোক।

ঘটনাপ্রবাহ : পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×