কয়লা কেলেঙ্কারি

অধিকতর তদন্ত হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কয়লা

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা লোপাটের যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে চুরির পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, কয়লা গায়েবের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনকে আসামি করে যে মামলা দায়ের করেছেন, সেখানে চুরি হওয়া কয়লার পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর দাবি- অভিযোগের চেয়ে গায়েব হওয়া কয়লার পরিমাণ অনেক বেশি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির অধিকতর তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। তাছাড়া ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি থেকে পাম্পের মাধ্যমে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে যে পানি জমা হয়, তার সঙ্গে কয়লার ডাস্ট অর্থাৎ ক্ষুদ্রাকৃতির কয়লাও জমা হয়ে থাকে। এর পরিমাণ হচ্ছে বছরে প্রায় ১৬ থেকে ২০ হাজার টন। জানা গেছে, কয়লা খনির ওয়াটার প্লান্টে নিষ্কাশিত কয়লার কোনো হিসাব রাখা হয় না বরং কর্মকর্তারা অবৈধভাবে এসব কয়লা বিক্রি করে থাকেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, ২০০১ সালে খনি উন্নয়নের সময় থেকে এ পর্যন্ত হিসাবের বাইরে থাকা কয়লা যোগ হলে লোপাট হওয়া কয়লার পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে।

বিপুল পরিমাণ কয়লা চুরি যে একদিনে হয়নি, তা বলাই বাহুল্য। বস্তুত দীর্ঘদিন ধরেই কয়লা চুরি করে আসছিলেন একশ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা। চুরির এ ঘটনা এতদিন কারও নজরে এলো না কেন, এ এক প্রশ্ন বটে! শুরুতেই চুরি বন্ধ করা গেলে এভাবে জাতীয় সম্পদ লোপাটের ঘটনা ঘটত না। অভিযোগ উঠেছে, কয়লা খনিতে দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ হল ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) বাণিজ্য, যার সঙ্গে মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তারা জড়িত।

দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে দেশে লুটপাটের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা মূলত রাষ্ট্রের ভিত নড়বড়ে করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। দেশে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের প্রসার নিয়ে সম্প্রতি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারবিষয়ক কমিটি উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উদ্বেগের বিষয় হল, দেশে দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তারে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারের তরফ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। দুর্নীতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। কাজেই দুর্নীতি রোধে সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করা দরকার। কয়লা খনি দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে দুুদক কাজ শুরু করেছে। তবে দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া উচিত নয়। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সবার বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : বড়পুকুরিয়ায় কয়লা গায়েব

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter