ভল্টের স্বর্ণ বিতর্ক

সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বাস্তবতা প্রকাশ পাক

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভল্টে এভাবেই সাজিয়ে রাখা হয় স্বর্ণের বার
ভল্টে এভাবেই সাজিয়ে রাখা হয় স্বর্ণের বার। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণের মান ও পরিমাণ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্বর্ণ মজুদের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বাঁধলেও সবচেয়ে বড় বিষয় স্বর্ণের মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে প্রতিবেদনটিতে, সেটি কেন ও কার স্বার্থে এক বছরের বেশি সময় ধরে গোপন রাখা হয়?

এমনকি ভিন্নভাবে ফাঁস হয়ে না গেলে তদন্ত প্রতিবেদনটি আদৌ প্রকাশ করা হতো কিনা, তা-ও প্রশ্নাতীত নয়। এতে করে ভল্টের ভেতরের স্বর্ণে যে বড় ধরনের ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আছে, তা অনুমান করা অস্বাভাবিক নয়।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখার সময় ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ ১৮ ক্যারেট হিসেবে জমা নেয়া হয়। স্বর্ণের ওজনেও গরমিল করা হয়ে থাকে।

এমনকি সোয়া তিন কেজি ওজনের স্বর্ণের চাকতিকে ভিন্ন ধাতু হিসেবে দেখানোর ঘটনাও শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রহস্যজনকভাবে চেপে রাখা প্রতিবেদনটি ফাঁস হয়ে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দার হিসাবে তারতম্যকে ‘করণিক ভুল’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা উদ্বেগজনক।

কারণ এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে মোটা অঙ্কের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে এবং সেটিও সরকারকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এজন্যই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভল্টের স্বর্ণ নিয়ে যদি সত্যিকারার্থে কোনো ধরনের গরমিল করা হয়ে থাকে, তবে তা হবে রিজার্ভ চুরির চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা।

আশার কথা, ভল্টের স্বর্ণে কোনো ধরনের কারসাজি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মনে করি, শুল্ক গোয়েন্দা ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বর্ণের মান ও পরিমাণ যাচাই করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

একইসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দার প্রতিবেদন কেন চেপে রাখা হয়েছিল, তা উদ্ঘাটনের উদ্যোগ নেয়া হলে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসবে। তবে কেবল তদন্ত করলেই হবে না, প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া ও কাউকে শাস্তি না দেয়ার কারণে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজরা যে উৎসাহী হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

সোনার যে চাকতিকে ভিন্ন ধাতু হিসেবে দেখানো নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে সেটা জব্দ করার পর ওই স্বর্ণ পাচারকারীর ১০ বছরের জেল হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না হলে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক হবে বৈকি।

করণিক ভুল ও বাংলাদেশ ব্যাংক কষ্টিপাথরে যাচাই করেছে এবং শুল্ক গোয়েন্দা ডিজিটাল মেশিনে যাচাই করেছে- এমন আষাঢ়ে গল্প হাস্যকর। কারণ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে মেশিন ও সনাতন পদ্ধতিতে পরীক্ষার কথা যেমন উল্লেখ আছে, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও রয়েছে।

ভল্টের স্বর্ণের মান-পরিমাণে সাযুজ্য না থাকা থেকে প্রতীয়মান হয় স্বর্ণ ধরা পড়ার পরও চোরাকারবারিরা সেগুলো তুলে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।

ভল্টের নিরাপত্তা ছাড়াও এর সঙ্গে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্ন জড়িত থাকায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং স্বর্ণ নীতিমালা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংরক্ষণ পদ্ধতি ঢেলে সাজানো দরকার।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter