তিন সিটি নির্বাচন

সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন হোক

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন সিটি নির্বাচন

গত কয়েক দিনে নির্বাচনকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার পর আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভোটাররা। ভোট গ্রহণের পর আজ রাতেই ফলাফল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বস্তুত এ ফলাফলেই নির্ধারিত হবে তিন সিটির মেয়র পদে কারা অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। উল্লেখ্য, তিন সিটিতে মেয়র পদে ১৯ জন প্রার্থীর নাম থাকলেও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ১৭ জন। বরিশাল ও সিলেট সিটিতে দু’জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে তিন সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্য এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ভোট গ্রহণ নিয়ে তিন সিটির আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অনেকটা নির্ভার হলেও বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শঙ্কা রয়েছে।

দলটির অভিযোগ, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত তিন সিটিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে ১৮টি মামলায় ১১শ’র বেশি আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই এলাকা ছেড়ে সরে গেছেন। এ অবস্থায় প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যক এজেন্ট থাকবে কিনা, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে দলটি। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা- যাতে দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক ভোটার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আজ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য একধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক মাস আগে হওয়ায় নানা দিক থেকে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া না হওয়ার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে আগামীতে জাতীয় রাজনীতি কোনদিকে যাবে। অন্তত পর্যবেক্ষকরা তা-ই মনে করছেন। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় জাতীয় নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন কতটা দৃঢ়তা প্রদর্শনে সক্ষম হবে, তার একটি বার্তা পাওয়া যাবে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে।

তাছাড়া নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ভূমিকা পালন করবে এবং এক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা কী হবে সেটিও দেখার বিষয়। উল্লেখ্য, এর আগে খুলনা ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে বিজিত প্রার্থী ও তার দলের পক্ষ থেকে। এজন্য সমালোচিত হয়েছে ইসি। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় এটি পরিণত হতে যাচ্ছে মর্যাদার লড়াইয়ে। তাই গোটা দেশবাসী এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।

জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাঠে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসারের সদস্যরা। বিষয়টি স্বস্তিদায়ক হলেও এ কথা সত্য যে, কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাই যথেষ্ট নয়। অতীতে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গেছে, কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অনেক অঘটন ঘটেছে। মূলত নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার বিষয়টি বহুলাংশে নির্ভর করছে ইসি কতটা স্বাধীনভাবে ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করবে বা করতে পারবে, তার ওপর। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টিও জরুরি। আমরা মনে করি, দেশে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের স্বার্থে স্থানীয় ও জাতীয়সহ সব নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter