তিন সিটির নির্বাচন

অনিয়মের তদন্ত হওয়া উচিত

  যুগান্তর ডেস্ক    ০১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন সিটির নির্বাচন

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ছিল আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য এক ধরনের এসিড টেস্ট। কারণ জাতীয় নির্বাচনের আগে এটিই ছিল সবশেষ বড় নির্বাচন।

সেদিক থেকে এ তিন সিটির নির্বাচনী পরীক্ষায় ইসি কতটা উতরাতে পেরেছে কিংবা আদৌ পেরেছে কিনা, এখন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন বিশ্লেষকরা, এবং অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সেখানে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ১৩৪টির মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন।

দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত থাকায় চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়নি। তবে ফল ঘোষণা না হলেও ভোটের যে চিত্র, তা বিশ্লেষণে দেখা যায় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। সুতরাং তিন সিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটিতে এবং বিএনপি একটিতে জয়ী হয়েছে বলা যায়।

সার্বিক বিচারে তিন সিটির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল এ কথা বলা যাবে না। জালভোট, পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে বাধা প্রদান, বর্জন, পুনর্নির্বাচনের দাবিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এবং বিচ্ছিন্ন গোলযোগের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে নির্বাচন। তিন সিটি কর্পোরেশনে ৩৯৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টির ভোট বা ফল অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

তিন সিটির মধ্যে রাজশাহীর নির্বাচনটি ছিল মোটামুটি শান্তিপূর্ণ। যদিও সেখানে অনিয়মের অভিযোগ এনে একটি কেন্দ্রের মাঠে বসে অবস্থান নেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপিসহ চার মেয়র প্রার্থী অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে মাঝপথে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

সিলেট সিটি নির্বাচনেও জালভোট, সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই।

নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা উচিত এবং অভিযোগ সত্য হলে নির্বাচন কমিশনকে তার সন্তোষজনক প্রতিবিধান করতে হবে। ইসিকে তিন সিটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো কাটিয়ে উঠে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে হবে।

আমরা তিন সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়রদের অভিনন্দন জানাই। তাদের ওপর অনেক গুরুদায়িত্ব বর্তেছে। নবনির্বাচিত মেয়রদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন সব ধরনের দলীয় ও ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন।

নবনির্বাচিত মেয়ররা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি শোভন আচরণ করেছেন এবং নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন। আমরা আশা করব, তাদের এই গণতান্ত্রিক চেতনা অব্যাহত থাকবে এবং তিন সিটির যথার্থ অভিভাবক হিসেবেই তারা নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter