ফিটনেস সনদহীন এত যান!

সড়ক নিরাপদ করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফিটনেস সনদহীন যান

আমাদের সড়ক পথে যে বছরের পর বছর নৈরাজ্য চলছে, এমনকি সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে তাতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।

দায়িত্বশীল মহল যদি যত্নবান হতো তবে কোনোভাবেই দেশে এক লাখের বেশি (প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার কথা) বাস-ট্রাক ফিটনেস সনদবিহীন এবং ১৬ লাখের বেশি গাড়িতে লাইসেন্স ছাড়া চালক থাকার কথা নয়।

আরও উদ্বেগের বিষয়, ফিটনেস সনদবিহীন ও লাইসেন্সধারী চালকবিহীন এসব গাড়ি চলছে পুলিশ ও পরিবহন সমিতিগুলোকে ‘ম্যানেজ’ করেই। পরিস্থিতি এমন বেপরোয়া হলে সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। দেশবাসীর দাবি- যথেষ্ট হয়েছে, এবার যে কোনো মূল্যে সড়ক নিরাপদ করতে হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর বিমানবন্দর রোডে দুটি বাস পাড়াপাড়ি করতে গিয়ে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফুটপাতে উঠে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এক ছাত্র ও এক ছাত্রীকে চাপা দিয়ে হত্যার পর স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের রাস্তায় নেমে আসা এবং গাড়ির চালকদের লাইসেন্স চেক করার ঘটনা বার্তা দিয়েছে যে সাধারণ মানুষ তো বটেই, পুলিশের কর্মকর্তা থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছেন দেদার।

রাস্তায় লেন এবং অ্যাম্বুলেন্সের জন্য পৃথক লেন বানিয়ে ছাত্ররা সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে রাস্তার শৃঙ্খলা কেমন হওয়া দরকার। এখন বিআরটিএ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ দায়িত্বশীল সব পক্ষকে সড়কে নৈরাজ্য রোধে ফিটনেস সনদবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসা দরকার।

সড়ককে মৃত্যুফাঁদ বানিয়ে ফেলার পেছনের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা, এমনকি সড়কে হত্যার শাস্তির জন্য কঠোর কোনো আইন না থাকা। এতদিন পুরনো মোটরযান আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ ছিল মাত্র ২০ হাজার টাকা এবং নানা ফাঁকফোকরে পড়ে তা-ও বাস্তবায়ন হতো না।

আশার কথা, চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন সাজার বিধান রাখা হচ্ছে। এছাড়া ফিটনেস সনদবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং অন্যান্য নিয়ম-কানুন ভঙ্গের শাস্তিও বাড়ানো হচ্ছে।

আমরা মনে করি, কেবল আইন করলে হবে না, চূড়ান্ত হওয়ার পর আইনটি দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগও থাকতে হবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিভিন্ন সময় সংঘবদ্ধ হয়ে মানুষকে জিম্মি করে নিজেদের অন্যায় দাবি, এমনকি স্বার্থের জন্য খোদ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে দেখা গেছে পরিবহন শ্রমিকদের। যখনই তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে, তখনই তারা ধর্মঘট করে মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে।

বর্তমান সময়ে এমন নৈরাজ্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারের দায়িত্বশীল মহলের উচিত ফিটনেস সনদবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালকদের এবং এরূপ গাড়ির মালিকদের শাস্তির পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনা।

সবাই সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন কঠিন কিছু হবে না। এরই মধ্যে ব্রিটেন, আমেরিকাসহ অনেক দেশই কঠোর আইন ও সচেতনতার মাধ্যমে নিজেদের সড়ককে প্রায় শতভাগ নিরাপদ করে ফেলেছে। প্রয়োজনে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সড়কে প্রাণহানি ও সম্পদহানি যাতে কমিয়ে আনা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter