নিরাপদ হোক সড়ক

  মীর আব্দুল আলীম ০৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক নিরাপত্তা সাইন
সড়ক নিরাপত্তা সাইন। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীরা সড়ক নৈরাজ্য রোধে পথে নেমেছিল; আর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর ওপরই পিকআপ তুলে দিল নিষ্ঠুর চালক। এমন দুঃসাহস ওরা পায় কী করে? রাষ্ট্র কি অন্ধ?

সড়ক নিরাপদ করতে রাষ্ট্রের সবাই যখন ব্যর্থ, পথঘাট যখন রক্তাক্ত, তখন শিক্ষার্থীরা তা রোধে রাস্তায় নেমে আসে। এর বিকল্প কিইবা ছিল তাদের? আমরা যা পারিনি তা আমাদের সন্তানরা করে দেখিয়ে দিচ্ছে।

আন্দোলন হচ্ছে, শিশুরা আন্দোলন করছে, এ আন্দোলন বছর বা মাসজুড়ে চাই না। তাতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা আসবে। শিক্ষার্থীরা আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাক, পাশাপাশি আমাদের সড়ক-মহাসড়কও নিরাপদ হোক, এটাই কায়মনে চাই।

সড়কে অরাজকতা বন্ধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। অপ্রাপ্তবয়স্ক-অবৈধ চালকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অবলম্বন করতে হবে। সমস্যা কোথায় জানি না। অবৈধ চালক আর গাড়ি ব্যবসায়ীদের চেয়ে জনগণের সংখ্যা ও শক্তি অনেক বেশি। সরকার পরিবহন সেক্টরে পরিবর্তন আনুক। সড়ক খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিক, এটাই আমরা চাই।

আমাদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কি সরকারের নেই? আসলে সড়কের ব্যাপারে কেউ তেমন ভাবে না। দেশে নতুন নতুন সড়ক হচ্ছে, যমুনায় সেতু হয়েছে, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হচ্ছে, ফ্লাইওভার হয়েছে, রাজধানীতে সুন্দর লেক হয়েছে, ফোয়ারা হয়েছে, মেট্রোরেল হবে।

নিরাপদ সড়কের কী হবে? যারা দেশ চালান, সড়ক নিরাপদ করতে তাদের তো ভাবনা থাকা উচিত। সবাই মাঠে নামুক নিরাপদ সড়কের জন্য। রাষ্ট্র সড়ক নিরাপদ করতে ব্যবস্থা নিক।

দেশে সন্ত্রাস দমনে যদি বিশেষ বাহিনী গঠন করা যায়, দুর্ঘটনা রোধেও এ ধরনের বাহিনী নয় কেন? এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে শতকরা ৩০ জন লোক মারা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ৭০ জন। ৩০ জনের জানমাল রক্ষায় সরকারের একটি বাহিনী থাকলে ৭০ জনের জীবন রক্ষায় তথা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বাহিনী গঠন করছে না কেন? দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আমরা জেনেছি, কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়ই দেশে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটছে। এ হিসাবে মাসে ৯০০ জন এবং বছরে ১০ হাজার ৮০০ জন মারা যাচ্ছে। তবে বিআরটিএ’র পরিসংখ্যানমতে, এ সংখ্যা দিনে ১৬ এবং বছরে ৫ হাজার ৭৬০।

আইন না মানাই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ ক্ষেত্রে সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ প্রশাসন এ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে তাদের ঢেলে সাজাতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রুখতে হবে। যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক; তা যদি অকাল ও আকস্মিক হয়, তবে তা মেনে নেয়া আরও কঠিন।

প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একের পর এক অকালমৃত্যু আমাদের শুধু প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে না, এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় ও অরাজক পরিস্থিতিও মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি।

মীর আব্দুল আলীম : সাংবাদিক, গবেষক

[email protected]

jugantor-event-বিমানবন্দর-সড়কে-দুই-শিক্ষার্থীর-মৃত্যু-76848--1

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter