মূল্য নির্ধারণে কারসাজি

সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওষুধ
ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশে প্রতিনিয়ত কত মানুষকে যে পথে বসতে হয়, তার কোনো হিসাব নেই। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ওষুধের দাম কমানোর ব্যবস্থা করা হলে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেত। কিন্তু বাস্তবতা হল বিভিন্ন ওষুধের দাম বেড়েই চলেছে।

এ অবস্থায় অনেকের পক্ষে সময়মতো প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বস্তুত কোনো কারণ ছাড়াই কিছুদিন পরপর বাড়ে বিভিন্ন ওষুধের দাম। রোববারের যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অস্ত্রোপচারের জন্য যেসব ওষুধের প্রয়োজন সেগুলোর দাম বেড়েছে। আগে যে ওষুধের দাম ছিল ১৫০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪০ টাকা।

এভাবে ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেলে হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে অনেক জরুরি ওষুধও সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ ব্যুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্সের (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে একটি কঠিন রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রতিবছর ৬৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে।

১৯৯৪ সালের যে নির্দেশনাকে পুঁজি করে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছামতো ওষুধের দাম বাড়ায়, জনস্বার্থে তা পরিবর্তন করা দরকার। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ হতদরিদ্র। তাদের পক্ষে বেশি দামের ওষুধ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। অসুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।

বিভিন্ন ওষুধের দাম বেশি রাখা হলে, এ বাবদ অর্থ ব্যয় করে প্রতিনিয়ত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে- এ দিকটি বিবেচনায় নিয়ে মানুষ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ ক্রয় করতে পারে- সরকারকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

মাঝে মাঝে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ওষুধের দাম বাড়িয়ে থাকে। নকল ও ভেজাল ওষুধ ব্যবহারের কারণে মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হয়- বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও অসাধু ব্যক্তিদের অপতৎপরতার বিষয়টি বারবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।

এসব সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। এসব বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও এ বিষয়ে এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান ওষুধের উচ্চমূল্য নির্ধারণ করেছে কিনা তা নিয়মিত যাচাই করে আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করার জন্যও পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে সব ধরনের ওষুধ ক্রয় করতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন করার পাশাপাশি আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter