সড়ক পরিবহন আইন

অনুমোদিত খসড়াটি নিয়ে মতবিনিময় দরকার

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

রোববার বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ঝিগাতলা, ধানমণ্ডি, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে সহিংস ঘটনা। আগের ৭ দিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ছিল স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী।

রোববার সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থীও এতে যোগ দেন। হামলাকারীরা শুধু শিক্ষার্থীদেরই আক্রমণ করেনি, সাংবাদিক, পুলিশ ও পথচারীদেরও আক্রমণ করেছে। হেলমেট পরা এই হামলাকারীদের হাতে ছিল পিস্তল, রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোটা। তারা দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের শুধু মারধরই করেনি, তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাংচুর করেছে।

ভাংচুর করা হয়েছে গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়িও। শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারা এ হামলাকারী তা চিহ্নিত করা জরুরি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ- পুলিশের সঙ্গে হামলায় অংশ নিয়েছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিতে ‘তৃতীয় পক্ষ’ নেমেছে। আমরা মনে করি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর যারাই হামলা চালিয়ে থাকুক, তাদের উদ্দেশ্য যে আন্দোলন নস্যাৎ করা এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তাদের সহপাঠীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন করে এসেছে, তার প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এই শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি সামনে এনেছে, তা দেশের মানুষেরই মনের কথা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আমরাও মনে করি, শিক্ষার্থীদের জায়গা রাজপথ নয়, তাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে নিশ্চয়ই। যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তবে যে দাবি নিয়ে তারা রাজপথে নেমেছিল, অর্থাৎ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তা পূরণ করা সরকারের এখন অনেক বড় কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুল-কলেজের এই শিক্ষার্থীরা সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নিরাপদ সড়ক এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কী কী করা দরকার।

গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কারও নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক হত্যা বলে প্রমাণিত হলে ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রয়োগ হবে।

উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত আইনে আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বা প্রাণহানির জন্য সর্বোচ্চ সাজা ছিল তিন বছরের কারাদণ্ড। নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, গাড়ি চালানোর অপেশাদার লাইসেন্স পেতে হলে চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পাস এবং বয়স ১৮ বছর হতে হবে। আর পেশাদার লাইসেন্সের জন্য বয়স হতে হবে ২১ বছর। তবে এসব বিধানের ফলেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হয়ে যাবে এমনটি মনে করার কারণ নেই।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের প্রয়োজন রয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, আইন প্রণয়নের চেয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।