পুরনো পথেই গণপরিবহন

ট্রাফিক পুলিশ কী করছে?

  সম্পাদকীয় ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পাদকীয়

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত সপ্তাহে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বড় একটি আন্দোলনের পরও বেপরোয়া বাস-মিনিবাস চালকদের দৌরাত্ম্য থামেনি। বন্ধ হয়নি সড়কে নৈরাজ্য।

যাত্রী তোলা নিয়ে তাদের রেষারেষি অব্যাহত রয়েছে। আগের মতোই এক বাস আরেক বাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে চলছে, লিপ্ত রয়েছে অসুস্থ প্রতিযোগিতায়।

রাস্তার মাঝে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। চালক বাস চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। ভাড়া নিয়েও চলছে নৈরাজ্য। ভাড়া নেয়া হচ্ছে সিটিং সার্ভিসের, অথচ চালানো হচ্ছে লোকাল সার্ভিসের মতো দাঁড়ানো যাত্রী নিয়ে। গত ২৯ জুলাই যাত্রী তোলা নিয়ে বাসগুলোর এই রেষারেষির শিকার হয়েই প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী।

এরপর রাজধানীসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে তোলে তীব্র আন্দোলন। একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয় সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার। নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস করা হয় মন্ত্রিসভায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে ট্রাফিক সপ্তাহ। কিন্তু কোনো কিছুরই যেন তোয়াক্কা করছে না গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ফলে শুধু যাত্রী ভোগান্তিই বাড়ছে না, আবারও যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। গণপরিবহনকে এভাবে চলতে দেয়া যায় না। এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতেই হবে।

বস্তুত এ সবকিছু গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তাই তুলে ধরছে। সেই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশেরও আরও বেশি তৎপর হওয়া প্রয়োজন। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্প্রতি নতুন সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। কিন্তু এ আইনে যাত্রীদের স্বার্থ রয়ে গেছে উপেক্ষিত। প্রস্তাবিত আইনে বাস-মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সংস্কার এবং ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে এসব বিষয় যেন অবশ্যই সংযোজন করা হয়। নয়তো সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে, বদলাবে না কিছুই।

শুধু গণপরিবহন নয়, সড়কে মোটরসাইকেল চলাচলেও আসেনি শৃঙ্খলা। তাদের বেপরোয়া চলাচল অব্যাহত রয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে আগের মতোই।

রিকশা চলাচলেও তৈরি হয়নি শৃঙ্খলা। এমনকি পথচারীরাও সচেতন হয়েছেন বলা যাবে না। এখনও অনেককে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করতে দেখা যাচ্ছে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছেন কেউ কেউ।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে কি তবে কেউই কোনো শিক্ষা নেননি? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সেটা হবে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পরিবহন খাত, ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে।

এ জন্য আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন জনসচেতনতাও। বস্তুত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও জনসচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। আমরা সবাই যদি সদা সতর্ক থাকি, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও বাধ্য হবে ট্রাফিক ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter