ঋণের সুদহার এখনও উঁচুতে!

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত কেন?

  বিজনেস ডেস্ক ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুদ হার

সরকারের নির্দেশনার পরও বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে না নিয়ে আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি খাতের ছয়টি ও বেসরকারি খাতের একটিমাত্র ব্যাংক বেশিরভাগ ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনলেও বাকি ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা ঋণের সুদহার আগের চেয়ে সামান্য কমিয়ে ডাবল ডিজিটেই রেখেছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নির্দেশনা রয়েছে। একাধিকবার বৈঠক করে তারা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের নির্দেশনাও দিয়েছেন। তারপরও এটি কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।

মূলত দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। উদ্যোগটি কার্যকর না হওয়ায় উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন, যা বলাই বাহুল্য। চড়া সুদের কারণে ঋণ নিয়ে শিল্প স্থাপন অনেকটা দুরূহ বিধায় উদ্যোক্তারা পুঁজি বিনিয়োগ না করে হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এর ফলে শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঋণের সুদের হার নিয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা অনাকাক্সিক্ষত ও অগ্রহণযোগ্য। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির তাগিদ থেকে ব্যাংকগুলোর সুদের হার ৬ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ নমনীয় পর্যায়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও আমাদের দেশে এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমাদের ব্যাংকগুলোয় বিদ্যমান সুদের হার ১৬ থেকে ২১ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছিল।

দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিলেও অধিকাংশ ব্যাংক নানা অজুহাতে তা উপেক্ষা করে চলেছে। আমরা মনে করি, ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত।

ব্যাংক মালিকরা সংকটের কথা বলে ইতিমধ্যে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নানা সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। তারপরও তারা অধিক হারে সুদ আরোপ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না; পদে পদে সার্ভিস চার্জ আরোপের মাধ্যমে আগ্রাসী ব্যাংকিংও অব্যাহত রেখেছে। ব্যবসায়ী, ঋণগ্রহীতা, সাধারণ গ্রাহক প্রত্যেকের হিসাব থেকে সার্ভিস চার্জ ও হরেকরকম কমিশন আদায়ের নামে মোটা অংকের টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকগুলো এখন গ্রাহকদের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব থেকেও মাত্রাতিরিক্ত টাকা কেটে নিচ্ছে। এর মধ্যে হিসাব খোলা, বন্ধ করা, পরিচালনা, অনলাইন চার্জ, লোন প্রসেসিং ফি, এসএমএস ব্যাংকিং চার্জ, কার্ড ফি, চেকবই ফি, হিসাব বিবরণী পাঠানোর খরচসহ আরও অনেক চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব শুধু গ্রাহকের ব্যক্তিগত হিসাবের ক্ষেত্রে। ব্যবসায়িক হিসাবের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ ও কমিশনের হার আরও বেশি।

দেশের আমদানি-রফতানি, উৎপাদন, জোগান তথা ভোক্তা পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার সার্বিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। অনেক উদ্যোক্তার নিট মুনাফা ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে আসায় উৎপাদন সচল ও ব্যবসা চালিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ঋণে উচ্চসুদ ও অহেতুক সার্ভিস চার্জ বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা। বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই সুদের হার দ্রুত সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter