সতর্কতা নিরাপত্তা দেবে

  মো. আল-আমিন নাহিদ ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়ক দুর্ঘটনা
ছবি-যুগান্তর

প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ। মানুষ হারাচ্ছে প্রিয়জনকে। একটি সড়ক দুর্ঘটনা একমুহূর্তেই পাল্টে দিচ্ছে একজন মানুষের জীবনের গতিপথ। সন্তান হারিয়ে কেউ হচ্ছে নিঃসন্তান, বাবা-মাকে হারিয়ে কেউ হচ্ছে এতিম, স্বামী হারিয়ে কেউবা হচ্ছেন বিধবা।

শুধু তাই নয়, একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা হয়ে পড়ছেন দিশেহারা। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। প্রিয়জন হারানোর ক্ষত তাদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সারাটি জীবন। তাই সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রতিবছর ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়। ঈদে সড়কে মানুষ ও গাড়ির চাপ বাড়ে বহুগুণ। ফলে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে সড়ক ব্যবস্থা। কম সময়ে অধিক যাত্রী পরিবহন, স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় চালকরা কোনো নিয়মনীতি না মেনে বেপরোয়া ও অসতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে থাকে।

ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হওয়ার এটাই কারণ। গত ঈদেও সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তাই ঈদ আনন্দের হলেও অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠছে বিষাদময়। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার, বাস মালিক, চালক ও যাত্রী- সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে এবং নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে :

১. চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মনোভাব বা অনিয়ন্ত্রিত গতি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানো চলবে না।

২. দূরযাত্রার ক্ষেত্রে বিশ্রাম না নেয়া বা বিশ্রাম না নিয়ে একাধিক ট্রিপ দেয়ার কারণে অনেক সময় চালক ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত বা ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এর ফলে এক সময় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। তাই চালকের সঠিক ঘুম ও বিশ্রাম জরুরি।

৩. অবৈধ ওভারটেকিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অনেক সময় স্বল্পগতির যানবাহনকে ওভারটেকিংয়ের প্রয়োজন পড়ে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গাড়িকে সিগনাল দিয়ে সামনের দিক থেকে কোনো গাড়ি আসছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ওভারটেক করতে হবে।

৪. ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ির চলন্ত অবস্থায় ব্রেক কাজ না করলে বা ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

৫. সড়কে ত্রুটিপূর্ণ বাঁকের কারণে সামনের দিক থেকে আসা গাড়ি দেখতে না পাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ ব্যাপারে চালকদের সতর্ক থাকতে হবে।

৬. ঈদের সময় অধিকসংখ্যক যাত্রী পরিবহনে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই অধিক ড্রাইভারের প্রয়োজন পড়ে। বাস মালিকরা এ চাহিদা মেটাতে আধা দক্ষ, অদক্ষ ড্রাইভার নিযুক্ত করেন। এসব চালকের মহাসড়কে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকায়, নিয়মনীতি না জানায় দুর্ঘটনা ঘটে।

৭. বাসের ছাদে বা ট্রাকে যাত্রী হয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এ ক্ষেত্রে মুখোমুখি সংঘর্ষে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকে। এ ছাড়া সামান্য দুর্ঘটনায় যাত্রী ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে যেতে পারেন।

৮. ক্লান্তি দূর করার জন্য অনেক সময় চালকরা মাদক গ্রহণ করে থাকেন, যার ফলে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারেন।

৯, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা পরিহার করতে হবে। গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই ঈদযাত্রায় সবাই সচেতন ও সতর্ক থাকুন। এই সতর্কতাই আপনাদের নিরাপত্তা দেবে।

মো. আল-আমিন নাহিদ : নির্বাহী (সেবা), রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.