গণপরিবহনে এবার প্রতিবন্ধী ধর্ষণ

সামাজিক অবক্ষয়ের সূচক আর কত নামবে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গণপরিবহনে এবার প্রতিবন্ধী ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

গতকালের (রোববার) যুগান্তরে উদ্বেগজনক দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর একটি হল, টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুগামী বাসে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা। অন্যটি রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রেম করার অভিযোগে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা। দুটি ঘটনাই সামাজিক অবক্ষয়ের উদাহরণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দেশে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। অতি তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে নানাবিধ কারণে অসহায় শিশু-কিশোররা যেভাবে ঘাতকের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র, প্রতারক, প্রবঞ্চক ও দুর্বৃত্তদল, এমন কী গর্ভধারিণী মায়ের হাতেও নিষ্পাপ-নিরপরাধ শিশু-কিশোররা এখন আর নিরাপদ নয়।

তবে শুধু অপহরণ ও হত্যার ঘটনা নয়, দেশে আরও নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। দেশে থানার সংখ্যা বাড়লেও রাজধানীসহ শহর ও গ্রামাঞ্চলে অপরাধের ঘটনা হ্রাস না পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা উচিত।

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর রুপা গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বছর না ঘুরতেই আবারও ওই অঞ্চলে বাসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রতিবন্ধী এক তরুণী। দেশের গণপরিবহন নারী কিংবা কন্যাশিশু, এমনকি প্রতিবন্ধী নারীর জন্যও যে নিরাপদ নয়, এ ঘটনা তারই প্রমাণ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মাসে সারা দেশে গণপরিবহনে ১২১ নারী ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বস্তুত গণপরিবহনে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি। গণধর্ষণের পর হত্যার মতো অপরাধে মাত্র ২ শতাংশ বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৯৮ শতাংশ অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। গণপরিবহনে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেয়া হলে এ অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে বলে মনে করি আমরা। একইসঙ্গে নারীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির মূল কারণ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করতে না পারলে উন্নয়নের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না, তা বলাই বাহুল্য।

মানব সভ্যতাকে আজকের এই পর্যায়ে উপনীত করার ক্ষেত্রে নারীর বিরাট অবদান রয়েছে। মেধা আর শ্রমে, আত্মত্যাগ ও বাৎসল্যে এ সমাজের চাকা সচল রাখলেও নারীর জীবন, মর্যাদা ও মানবাবিধার লঙ্ঘনের চিত্র আমাদের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। এটি আজ ব্যাপকভাবে স্বীকৃত- নারীর অধিকার, তার সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নততর স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষার প্রসারের দিকে ধাবিত হয়। তাই নিপীড়ন, নির্যাতন ও হয়রানির নিগড়ে তাদের বন্দি রেখে জাতির পক্ষে কাক্সিক্ষত উন্নয়নচূঁড়ায় আরোহণ সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধির মধ্য দিয়ে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ এবং শিশু-কিশোর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অপরাধ ক্ষমাহীন- এ কথা যেমন সত্য, তেমনি এক্ষেত্রে বাবা-মা ও পরিবারেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এতে অনেক অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও তার নির্ধারিত ভূমিকা পালন করতে হবে। যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ এবং শিশু-কিশোর হত্যার মতো ঘটনা যারা ঘটায়, তারা কোনো প্রকার অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নয়- এ বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি প্রদানের বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter