প্রস্তাবিত আইন

নখদন্তহীন বাঘ না হোক উচ্চশিক্ষা কমিশন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত আইন

উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, একে আরও বেশি হারে প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) ঢেলে সাজানো এবং যুগোপযোগী করতে সংস্থাটিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে (হায়ার এডুকেশন কমিশন বা হেক) রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু প্রায় ৮ বছর ব্যয় করে যে আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কেবল নাম পরিবর্তন ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থান থেকেও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে কমিশনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসনও খর্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে করে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণের নাজুক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে না যায়, আইনটি পাসের আগেই তা বিবেচনায় নিতে হবে।

জানা যায়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি, বিষয়, বিভাগ, ইন্সটিটিউট খোলা ও অর্থ বরাদ্দ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ খোলা ও সিলেবাস অনুমোদনের মতো কাজগুলো ইউজিসি এককভাবে করে থাকে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে এগুলোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাক-অনুমোদন নিতে হবে। ফলে ইউজিসির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নেয়া উদ্যোগ হিতে বিপরীত হয়ে এটা নখদন্তহীন বাঘে পরিণত হতে পারে বৈকি।

এছাড়া বর্তমানে শিক্ষাবিদ থেকে চেয়ারম্যান ও ইউজিসির নিজস্ব পরিচালক পদ থেকে সচিব নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি; কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আমলাদেরও আসার সুযোগ থাকছে। এমনকি কমিশনের নিজস্ব পদ সৃষ্টিও চলে যাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ইউজিসির প্রস্তাবিত খসড়ায় এমন পরিবর্তন এনে গোপনে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন আইন, ২০১৮’ অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ছাড়া এটি পাস হলে উচ্চশিক্ষা কমিশনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় কিনা, ভেবে দেখা দরকার।

অস্বীকার করার সুযোগ নেই, দেশে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থা স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এতে সংস্থাগুলোর নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্তৃপক্ষের দায়ভারই বেশি। জনস্বার্থ ও প্রকৃত কাজ বাদ দিয়ে তারা চাটুকারিতার মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে।

এ অবস্থায় স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার আগে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়-সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতনদের তোষামোদি ও অতিমাত্রায় রাজনৈতিক আচরণ পরিহার এবং কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হওয়ার বিষয়টি যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি উচ্চশিক্ষা কমিশনের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ সংস্থার যথেষ্ট স্বাধীনতাও থাকতে হবে। যেমন- প্রস্তাবিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কমিশন তদন্ত করতে পারবে; কিন্তু ব্যবস্থা নিতে পারবে না। সেটা নেবে মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা থেকেও যেখানে ইউজিসি অসহায়, সেখানে এমন বিধান একে পিছিয়ে দেয়া বৈকি। আমরা মনে করি, পাস হওয়ার আগেই প্রস্তাবিত আইনে উচ্চশিক্ষা কমিশনকে দুর্বল করার ধারাগুলো বদলানো এবং একইসঙ্গে কমিশনসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসনের উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করতে হবে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter