নমনীয়তার লাইসেন্স কে দেবে?

  সাঈদ চৌধুরী ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নমনীয়তার লাইসেন্স কে দেবে?
ফাইল ছবি

বড় অসময়ে বসবাস করছি আমরা। চারদিকে এত বেশি হই-হুল্লোড় যে, কারও খবর রাখাই ভুলে যাচ্ছে মানুষ। যখন ঈদ আসে তখন অনেক আনন্দ হয় চারদিকে। সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হল ঈদ করার জন্য সবার একসঙ্গে বাড়ি ফেরা। এ আনন্দ এতটাই বেশি যে, যে-কোনো মূল্যে যেতে হবে বাড়ি, প্রিয়জনের কাছে। আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখি, এই আনন্দ অনেক সময় আগুনে পতিত হওয়ার মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিবার যখন ঈদ আসে তখন আরেকটি ব্যাপারও আসে আর তার নাম হল মৃত্যুর মিছিল। রাস্তায় একটি বড় দুর্ঘটনা আর তার পাশে অনেক রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকা যেন নিয়ম হয়ে দঁড়িয়ে যাচ্ছে! যাচ্ছেতাইভাবে সড়কে মরছে মানুষ।

গেল ঈদেও মৃতের সংখ্যা ছিল অনেক। এর দায় চালক ছাড়াও অনেকের ওপর বর্তায়। এছাড়া আছে আরেকটি বড় দায়। একটি দৈনিকের এক খবরের শিরোনাম ছিল এমন- ‘গাড়ির সহকারীর হুংকার, ওরে দে মাইরা, বামে চাপ দিয়া দে’! আমি নিজেও এমন অনেক ঘটনা দেখেছি। কোনো ছোট যানবাহন দেখলেই হেলপাররা সরাসরি বলে দেয়- ‘এই সর সর নইলে উঠাইয়া দিবো’, ‘ওরে পিইষা দে’ এ ধরনের কথাবার্তা! অনেক সময় এমনও হয়- নারীরা রিকশায় যাচ্ছে, টিজ করার জন্য গাড়িটা একটু চাপিয়ে কিছু খারাপ কথা বলে চলে যায়! শুধু তাই নয়, প্রচণ্ড নেশা করেও গাড়ি চালায় অনেকে। মোবাইল ফোনে কথা বলা তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার বলেই ধরে নিচ্ছে এরা!

এসব ঘটনা আপনারও চোখে পড়ে নিশ্চয়ই। কিন্তু যখনই কিছু বলতে যাবেন, অপরাধী বলে বিবেচিত হবেন এ মানুষগুলোর কাছে। দুর্ঘটনায় শুধু যে যাত্রী মারা যাচ্ছে তা নয়, মারা যাচ্ছে চালকরাও। মৃত্যুর পর কে আর কার খবর রাখে। আইন মানতে বাধ্য করা, লাইসেন্স প্রদান- সবই আপনি করতে পারবেন হয়তো; কিন্তু নমনীয়তা আর নৈতিকতার লাইসেন্স কে দেবে বলতে পারেন? চালকদের কে বোঝাবে যে, সব কাজই ঠিক নয়।

রাস্তায় কতজন চালক বা হেলপার মানুষের প্রতি সহানুভূতি সহকারে গাড়ি চালায় বা চালাতে পারে? অনেক চালককে বলতে শুনেছি, একটি কুকুরকেও আমরা ইচ্ছা করে মারি না। তাহলে কারা অমানবিক? হ্যাঁ, অমানবিক চালকদের খুঁজে বের করা খুব দরকার। আমরা যতটা না বধির হয়েছি, তার চেয়েও বেশি হয়ে গেছি বোধহীন। কোনো কথায় কারও কিছু যায় আসে না। যত লাইসেন্স বা আইনের কথাই বলা হোক না কেন, মানসিকতার উন্নয়নই বেশি প্রয়োজন এখন। যতক্ষণ না পর্যন্ত অন্য মানুষের প্রতি চালকরা সহনশীল না হবে ততক্ষণ আইনের ব্যবস্থা কঠোর করেও সঠিক ফলাফল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। চালকদের মানসিকতা উন্নয়নে হাইওয়ে পুলিশদের কাউন্সেলিংয়ের ভার দেয়া হোক। প্রয়োজনে চালকের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি গাড়ি চালানোর সময় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ব্যাপারে কঠোরতা বাড়ানো হোক। দূরপাল্লার গাড়িগুলোতে বিআরটিএর নির্দিষ্ট ডিভাইস রাখার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে, যাতে কোনো গাড়ি নিয়মের বাইরে চালালেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া যায়।

মৃত্যু আর অনিয়ম যখন সমার্থক হয়, তখন তা থেকে পরিত্রাণের উপায় সবকিছু নতুনভাবে শুরু করা। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবার সহযোগিতা ও সচেতনতায় আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারব একটা সময়।

সাঈদ চৌধুরী : রসায়নবিদ ও সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, শ্রীপুর, গাজীপুর

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter