ফার্মাকোভিজিলেন্স নেটওয়ার্কে দেশ

নিম্নমানের ওষুধের বিস্তার রোধেও নিতে হবে পদক্ষেপ

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ওষুধের বিরূপ প্রভাবে দেশে কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার সঠিক হিসাব পাওয়া না গেলেও এর কারণে অনেক পরিবারকে যে পথে বসতে হয়েছে এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এতদিন কোনো ভুক্তভোগী তার ওষুধের বিরূপ প্রভাবের কথা কেবল সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানাতে পারতেন, ক্ষেত্রবিশেষে চিকিৎসককে এ তথ্য জানাতেও অনেক রোগীকে নানারকম বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো।

এখন থেকে ওষুধের বিরূপ প্রভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে এ অভিযোগ জানানো যাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদফতর ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিরূপ প্রভাবের কারণ অনুসন্ধানে নির্দেশনা প্রদান করবে। এতে পরবর্তী পর্যায়ে ওষুধ ব্যবহারে চিকিৎসকরা আরও সতর্ক হতে পারবেন। এ প্রক্রিয়াটি সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাকোভিজিলেন্স নেটওয়ার্কে প্রবেশ করার ফলে।

উল্লেখ্য, ফার্মাকোভিজিলেন্সের মূল লক্ষ্য হল ওষুধের নিরাপদ ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীর সঠিক চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশের সীমিতসংখ্যক হাসপাতাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টকে এ কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এ কার্যক্রমের পরিধি দ্রুত বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হলে এর মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এ কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ গাইডলাইন ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মনিটরিংয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। ওষুধ কোম্পানি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গাইডলাইন অনুসরণ করে ফার্মাকোভিজিলেন্স কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে জনগণের নিরাপদ চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

আমরা জানি, নকল ও নিুমানের ওষুধের বিস্তার রোধে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হলেও সারা দেশের ওষুধ বাজারে মানহীন ওষুধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশেষত অসাধু ব্যবসায়ীরা মফস্বলে নিুমানের ওষুধ বাজারজাত করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে মানুষ নানাভাবে প্রতারিত হবে। উদ্বেগজনক তথ্য হল, দেশে ভেজাল ওষুধও তৈরি হচ্ছে প্রচুর। একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি চিকিৎসকদের নানারকম উপঢৌকন দিয়ে নিুমানের ওষুধ প্রচলন করতে চায়। এদের তৎপরতা রোধেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।