শ্রম আইন সংশোধন

যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ছবি: সংগৃহীত

প্রচলিত শ্রম আইনের ৪১টি ধারা সংশোধন করে নতুন শ্রম আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। জানা যায়, আইএলও ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপের মুখে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।

তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেছেন, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী বর্তমান বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-কে আরও যুগোপযোগী ও শ্রমিকবান্ধব করা হয়েছে। নতুন আইনের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন ২০১৮’। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে একবার শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছিল। তখন এ আইনের ৯০টি ধারা সংশোধন করা হয়।

এবার যে ৪১টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ২০ শতাংশের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে। এর আগে ৩০ শতাংশের সম্মতি লাগত।

৫১ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন সাপেক্ষে ধর্মঘট করা যাবে। আগে দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের সমর্থন লাগত। নতুন আইনে কর্মক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক মারা গেলে দুই লাখ টাকা এবং দুর্ঘটনায় স্থায়ীভাবে পঙ্গু হলে আড়াই লাখ টাকা শ্রমিককে দিতে হবে। আগে এই ক্ষতিপূরণ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার টাকা।

এছাড়া উৎসবভাতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংশোধনী হল, ১৪ বছরের কমবয়সী কোনো শিশুকে কোনো কারখানায় নিয়োগ দেয়া যাবে না। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের কারখানায় হালকা কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে। আগে ১২ বছরের শিশুরা হালকা কাজের সুযোগ পেত। ১৪ বছরের নিচে কাউকে নিয়োগ দেয়া হলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রস্তাবিত আইনে বেআইনি ধর্মঘটের শাস্তি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে বেআইনি ধর্মঘট করলে শাস্তি ছিল এক বছর কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। নতুন আইনে সাজা ছয় মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে জরিমানা আগের মতোই ৫ হাজার টাকা থাকছে।

চাপের মুখেই হোক আর যুগোপযোগী করার জন্যই হোক, আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করাটাই সঙ্গত। দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান উত্তরোত্তর বাড়ছে। তারা অধিকার সচেতন হচ্ছেন। আইন দ্বারা শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সরকারের দায়িত্বও বটে।

প্রস্তাবিত আইনে শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে বলা যায়, কোনো বয়সের শিশুকেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা উচিত নয়। কিন্তু অনেক দরিদ্র ব্যক্তি পরিবারে আর্থিক সমর্থনের জন্যই তাদের শিশু সন্তানদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করেন।

কাজেই শিশুদের বাবা-মায়ের আয় না বাড়লে বাস্তবে শিশুশ্রম বন্ধ করা কঠিন হবে। তারপরও আমরা আশা করব, নতুন শ্রম আইনে সব ধরনের শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষিত হবে। এ আইন যেন সবার জন্য কল্যাণকর হয়, সেজন্য এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে, এটাই কাম্য।