কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্প

বাস্তবায়নে ধীরগতি অগ্রহণযাগ্য

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

ফাইল ছবি

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্প যথাসময়ে শেষ না হওয়ার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমা আড়াই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর কারণ, বাস্তবায়নে ধীরগতি। এর ফলে ব্যয়ের অঙ্কও উর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর পরিমাণ ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যথাসময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে নিশ্চয়ই এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন পড়ত না।

ইতিমধ্যে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ১০ খাতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকালে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তি অনুযায়ী চীনের এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদি ৪ হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ঋণ দেবে, যার প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যে ছাড় করা হয়েছে।

জনগুরুত্বপূর্ণ ও দেশের অর্থনীতির জন্য সুফলদায়ক প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।

এ কথা সত্য- কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলিল প্রণয়ন, অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, পরিবেশসংক্রান্ত অনুমোদন ও কারিগরি জটিলতায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে। জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে কিভাবে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়, তা খুঁজে বের করতে হবে।

তা না হলে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া দাতা সংস্থাগুলোর অর্থের ব্যবহার সময়মতো নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির ক্ষেত্র তৈরি হয়।

কাজেই কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তবেই অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পে বারবার সংশোধনী আনা হলে অতিরিক্ত ব্যয় নির্ধারণের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

অস্বীকার করার উপায় নেই, সুষ্ঠুভাবে এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে আগে যেসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল, সেগুলোর অধিকাংশ এখনও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না হওয়া, প্রকল্পের লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক যথাযথ না হওয়া, একাধিকবার প্রকল্প সংশোধন, সার্বক্ষণিক তদারকির অভাব, অনভিজ্ঞ ও অনাগ্রহী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, ভূমি অধিগ্রহণে পদ্ধতিগত দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্পের বছরভিত্তিক অডিট না হওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এ ধরনের সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে নিরসন করা না হলে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে গত ৩ বছর ধরে আমাদের এডিপি বাস্তবায়নে একই চিত্র বিরাজ করছে বলে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।

দুঃখজনক হল, এডিপির বাইরে ফাস্ট ট্র্যাক এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) উদ্যোগ নেয়া হলেও সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এ বাস্তবতায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণসহ যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া জরুরি।