শতবর্ষী ব-দ্বীপ পরিকল্পনা

সুষম বাস্তবায়ন কাম্য

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গত মঙ্গলবার শতবছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। ছবি- সংগৃহীত

পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। নেদারল্যান্ডসের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় তৈরি পরিকল্পনাটির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়িত হলেই দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ের পরিকল্পনার মধ্যে আছে ৮০টি প্রকল্প। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেয়া প্রকল্পগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে পানিসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা।

এতে অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চলের সমস্যা মোকাবেলার পাশাপাশি নদীর ক্যাপিটাল ও মেইনটেনেন্স ড্রেজিং করা হবে। ফলে নতুন ভূমি পাওয়া, নদীপথের ব্যবহার বাড়ানো এবং নদীভাঙন ঠেকিয়ে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পথ

উন্মোচিত হবে। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় আমাদের জন্য এটি যুগোপযোগী একটি প্রকল্প, তাতে সন্দেহ নেই। ব-দ্বীপ পরিকল্পনার আলোকে নেয়া প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় ব-দ্বীপ পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই ও অন্যান্য কাজ। তবে এর ইতিহাস অনেক পেছনে টেনে নিয়ে যায় আমাদের। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফরে গেলে তাকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘সুযোগ পেলে নেদারল্যান্ডস ঘুরে আসিও। কারণ আমাদের মতোই নদীর দেশ নেদারল্যান্ডস।’

নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতায় আমাদের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কাজে লাগিয়ে বাঙালির ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত ছিল বঙ্গবন্ধুর উপদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার নেদারল্যান্ডস সফর করেছেন এবং তাদের পানি ব্যবস্থাপনায় আকৃষ্ট হয়ে প্রকল্পটি নিয়েছেন।

ফলে এটি ভালোভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিক হবে বলে আমরা আশাবাদী।

পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ ও নদীমাতৃক আমাদের এ ভূখণ্ডটি পানির কারণে যেমন বারবার বিপদে পড়ছে, তেমনি আবার পানির অভাবে আমরা চাষের মৌসুমে হাহাকারও করছি।

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের কৃষিনির্ভর অনেক এলাকায় যেমন প্রয়োজনের সময় চাষাবাদের পানির অভাব দেখা দেয়, তেমনি খাবার পানির অভাবে ভোগাও নিয়তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে অনেক এলাকায়।

শিল্পোন্নত দেশগুলোর পরিবেশ দূষণের কারণে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা। এ অবস্থায় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার শতবর্ষী পরিকল্পনাটি আশার আলো হোক, এমনটিই সবার চাওয়া।

পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভূ-প্রতিবেশ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া পরিকল্পনার আওতায় সরকারি-বেসরকারি, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ও জলবায়ু তহবিলের অর্থপ্রাপ্তিতে গড়ে তোলা হবে ডেল্টা তহবিল ও ডেল্টা নলেজ ব্যাংক।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই একটি আবাসভূমি গড়ে তুলতে প্রকল্পটি কার্যকর হবে এবং ক্ষমতার পালাবদলেও চলমান থাকবে, এটাই কাম্য।