যুগান্তকারী উদ্ভাবন

ক্যান্সারের চিকিৎসায় সহায়ক হোক

  সম্পাদকীয় ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুগান্তকারী উদ্ভাবন

দেশীয় গবেষকদের একটি দল সাশ্রয়ে ও স্বল্প সময়ে ক্যান্সার শনাক্ত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি খবর।

নতুন এ প্রযুক্তিতে শুধু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্ত করা যাবে ক্যান্সার। বলা হচ্ছে, সহজ এ পরীক্ষায় খরচ হবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, আর সময় লাগবে মাত্র ৫ মিনিট। এমনকি কারও রক্তের অন্য কোনো পরীক্ষা করার সময়ও জানা যাবে তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত কিনা। গবেষকরা দাবি করছেন, ক্যান্সার শনাক্ত করতে এ প্রযুক্তি আগে কখনও বিশ্বের কোথাও ব্যবহৃত হয়নি। সে বিবেচনায় এ উদ্ভাবনকে আমরা একটি যুগান্তকারী ঘটনা বলতে চাই।

ক্যান্সারকে বলা হয় মরণব্যাধি। চিকিৎসকরা বলে থাকেন, ক্যান্সারের চিকিৎসায় সুফল পেতে হলে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে তথা দ্রুত শনাক্ত হওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটাবে বলে আশা করা যায়। দ্বিতীয়ত, ক্যান্সার শনাক্তকরণের পরীক্ষার পেছনে রোগীকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সেদিক থেকেও নতুন প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের ব্যাপক কল্যাণে আসবে বলে আমরা মনে করি। স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত রোগটি শনাক্ত করা গেলে ক্যান্সারের অনেক রোগীরই রোগমুক্তি সম্ভব হবে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রযুক্তির ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব হবে। তারা ‘নন-লিনিয়ার অপটিক্যাল ধর্ম ব্যবহার করে ক্যান্সার রোগীর শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ক্যান্সার নির্ণয়ের পদ্ধতি’ নামের এ প্রযুক্তির মেধাস্বত্বের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন।

বিশ্বে এ প্রযুক্তি প্রচলিত হলে তা কেবল সাধারণ মানুষের ক্যান্সার চিকিৎসার কল্যাণেই আসবে না, এটি আমাদের দেশের জন্য গর্বের বিষয়ও হয়ে উঠবে। বস্তুত আমাদের দেশে রয়েছেন অনেক প্রতিভাবান বিজ্ঞানী ও গবেষক। ইতিপূর্বে পাটের জন্মরহস্যসহ আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এ দেশের বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের আরও অনেকে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। ক্যান্সার শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণাটি করেছে অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন গবেষকের একটি দল। তাদের সবার প্রতি রইল আমাদের অভিনন্দন।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.