আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস

শতভাগ সাক্ষরতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাক্ষরাত দিবস

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ‘সাক্ষরতা অর্জন করি, দক্ষ হয়ে জীবন গড়ি’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশব্যাপী উদযাপিত হবে দিবসটি। এ উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২.৯ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৭২.৩ শতাংশ। অর্থাৎ ১ বছরে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। মোট হিসাবে বর্তমানে দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ২৫ লাখ। অর্থাৎ শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক অবস্থায় নেই।

মানবসভ্যতার চরম উৎকর্ষের এই যুগে এ তথ্যটি নিরাশাব্যঞ্জক যে, সাক্ষরতার হার দিন দিন বাড়লেও বর্তমানে বিশ্বের ২৬ কোটির বেশি শিশু-কিশোর স্কুলে যায় না এবং প্রায় ৬২ কোটি মানুষ সাক্ষরতা ও হিসাব-নিকাশে ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রযুক্তিগত বিস্ময়কর উদ্ভাবনের ফলে পুরনো ধাঁচের সাক্ষরতা ও হিসাবজ্ঞান নতুন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে এবং সামাজিক-আর্থিক-পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তেমন কাজে আসছে না। এ অবস্থায় শুধু সাক্ষরতা অর্জন নয়, প্রযুক্তিগত জ্ঞানও বিশেষ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে মানবজাতির জন্য।

বাংলাদেশে তাই শুধু শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাই যথেষ্ট নয়, জনসংখ্যাকে যথার্থ অর্থেই সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে শিক্ষা রয়েছে ৪ নম্বরে। এখানে অন্তর্ভুক্তমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষ ও মানসম্মত শিক্ষক-সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। আশার কথা, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এনজিও ও সুশীলসমাজ এসডিজির ৪ নম্বর লক্ষ্য নিয়ে নানামুখী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাটি অর্জিত হলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষে উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কাজটি সহজ হয়ে যাবে বলা যায়।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে গণশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আরও বলেছেন, দেশে যতদিন পর্যন্ত একজন নিরক্ষরও থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সরকার সাক্ষরতা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরদের সাক্ষরজ্ঞান দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আমাদেরও কথা, দেশে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের বিষয়টিকে কোনোক্রমেই হেলাফেলার চোখে দেখা যাবে না। ২০০৯ সালেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প গ্রহণ করেছিল, ২০১৪ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অনুমোদনও পেয়েছে। ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বাধা নেই। শুধু দরকার, প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নেয়া। প্রকল্পটির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যেই দেশের প্রত্যেকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন নাগরিক হয়ে উঠবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা চলে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter