বাসচাপায় মৃত্যু মামলার চার্জশিট

অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার মামলায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের মালিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে চার্জশিট লঘু সাজার ধারায় দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া চার্জশিটে মূল হোতাদেরও নাম নেই। তদন্তকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার নিয়োগ দেয়ার নেপথ্য কুশীলবদের সম্পর্কে জানতে পারলেও তাদেরও আইনের আওতায় আনা হয়নি। এ মামলায় আদালতে যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, আসামিদের ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত না করে ৩০৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করা হলে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে চিহ্নিত হতো এবং এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া সম্ভব হতো। এখন এ ব্যাপারে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আমরা মনে করি, এ মামলায় আসামিদের দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযুক্ত করার মতো উপাদান ছিল। ইতিপূর্বে তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলেও আদালতে সেগুলো হত্যা মামলা হিসেবেই বিচার হচ্ছে। জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালকসহ সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রেও তা-ই হওয়া উচিত ছিল। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা নিঃসন্দেহে গৎবাঁধা তদন্তের বিষয় নয়। মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন নয় বা দৈব-দুর্বিপাক- এমন ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা যায়। কিন্তু দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি তেমন না হওয়ায় এটি হত্যা মামলা হওয়ারই কথা। এর পরিবর্তে চার্জশিটে দুর্ঘটনা মামলা বলে কেন উল্লেখ করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়।

দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্যবস্থা। তারপরও দুর্ঘটনা কমেনি। এখনও প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে দেশে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এককথায় ভয়াবহ। একদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে অদক্ষ চালকের হাতে গাড়ি চালানোর ভার দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় কঠোরভাবে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে, এটাই কাম্য।