কাঠগড়ায় উঠবে মিয়ানমার

দ্রুত শেষ হোক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা। ছবি-সংগৃহীত

গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার আইসিসির কাছে এই মর্মে জানতে চেয়েছিলেন যে, মিয়ানমার থেকে যেভাবে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে বিতাড়ন করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে কিনা এই আদালতের।

এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির তিন বিচারকের প্যানেল এক লিখিত আদেশে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্য দিয়ে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে তাদের।

এ আদেশের ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আর কোনো বাধা থাকল না। অতঃপর আইসিসি তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে মিয়ানমার কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের তদন্তে নামবে বলে জানা গেছে।

মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় দেশটি কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে এ বিতর্কের মীমাংসার মধ্য দিয়ে অপরাধের বিচার করার পথ খুলে গেছে। এখন দরকার বিচারিক প্রক্রিয়াকে বেগবান করা।

ইতিমধ্যেই আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও আসিয়ান এমপিরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে রোহিঙ্গাদের বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য ও এশিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক সংসদ সদস্যদের সভাপতি চালর্স সান্তিয়াগো বলেছেন, আইসিসির সিদ্ধান্তটি একটি মাইলফলক এবং তা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের জবাবদিহিতা আদায়ের পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেছেন, আমাদের এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, গত আগস্টে জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গণহত্যার উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের সম্মুখীন করা উচিত।

রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো ও তাদের বিতাড়নজনিত অপরাধের যে বিচার করার কথা বলেছে আইসিসি, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গা সংকটটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

প্রথমত, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের নিকটতম প্রতিবেশী বাংলাদেশের জন্য এক বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে। ফলে রোম সনদে মিয়ানমার স্বাক্ষর করুক আর না-ই করুক, সংঘটিত অপরাধের বিচার তারা এড়াতে পারে না কোনোক্রমেই।

দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা বড় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের দায় থেকে মিয়ানমার কোনোভাবেই মুক্ত থাকতে পারে না। বিশ্ববাসীও এ অবস্থায় নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি সহমর্মিতায় সমগ্র বিশ্ব জেগে উঠেছে এবং আইসিসির সিদ্ধান্ত সেই সহমর্মিতারই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের প্রত্যাশা, আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন, হত্যাযজ্ঞ ও তাদের দেশত্যাগের সার্বিক চিত্র ফুটে উঠবে এবং সেভাবেই দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত হবে।