প্রবাসীরা দেশের সম্পদ

  আব্দুল্লাহ আল রাশেদ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসী
প্রবাসী। ফাইল ছবি

দেশের অর্থনীতির যেসব খাত নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি, তার একটি হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স। দেশের প্রতি টান ও ভালোবাসা সবারই থাকে। কিন্তু প্রবাসীরা সেই টান-ভালোবাসা, পরিবার-পরিজনের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি দেন বিদেশে।

একটু ভালো উপার্জনের আশায় তারা বছরের পর বছর বিদেশে পড়ে থাকেন। তাদের উপার্জনের ওপর নির্ভর করে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ। শুধু তাই নয়, আমাদের আকাশচুম্বী চাওয়া-পাওয়ার অনেকটাই নির্ভর করে প্রবাসীদের ওপর ভরসা করে। তারা সাধ্যমতো হাসিমুখে তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যান পরিবার ও দেশকে।

বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেশের জিডিপির ১২ শতাংশ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিকে যুগ যুগ ধরে সমৃদ্ধ করে আসছে।

প্রবাসীরা দেশ ও পরিবারকে অনেক কিছু দেন। তাদের কষ্টার্জিত অর্থে আমরা অনেকেই দামি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ফোনটা আপডেট না হলে আমরা মন খারাপ করি। কিন্তু আমরা একবারও চিন্তা করি না তাদের কষ্টের কথা।

যে অর্থ দিয়ে আমরা বিলাসিতা করি সেই অর্থ উপার্জনে তাদের পরিশ্রমের কথা আমাদের বিবেচনায় থাকে না। এসব আর্থিক যোদ্ধা, যাদের রেমিটেন্সের টাকায় আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থাকা উচিত। প্রবাসীরা দেশে এলে বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় যন্ত্রণা। ইমিগ্রেশনে পোহাতে হয় ঝামেলা।

ইমিগ্রেশন অফিসারের অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রবাসীদের পীড়া দেয়। বিদেশ থেকে শৌখিন কোনো কিছু নিয়ে এলে অনেক ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন অফিসারকে খুশি করে আসতে হয়ে। নইলে আটকে দেয়া হয় পণ্য। তাছাড়া দেশে-বিদেশে সরকারি অফিসে কোনো কাজের জন্য গেলে তাদেরকে নানাবিধ ঝামেলা পোহাতে হয়। ফলে তারা হতাশ হয়ে যান। তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

প্রবাসীদের প্রতি আমাদের সবার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো প্রয়োজন। তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার করা উচিত। তাদের কাছে আকাশচুম্বী চাওয়ার আগে তাদের সামর্থ্যরে প্রতি লক্ষ রাখা দরকার। প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারকেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দেশে ও প্রবাসে অফিসিয়াল কাজকর্মে তাদেরকে ফাস্ট ট্র্যাকের আওতায় সেবা প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসীদের কল্যাণ সাধনে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রবাসীরা যাতে কোথাও কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের খেয়াল রাখা উচিত।

তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা, রেমিটেন্স পাঠানো সহজীকরণ, নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র এবং বিদেশ ফেরতদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু করতে হবে। এতে দেশের সম্পদের সুষ্ঠু পরিচর্যা হবে। রেমিটেন্স বৃদ্ধি পাবে। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। সর্বোপরি, প্রবাসীরা ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ।

আব্দুল্লাহ আল রাশেদ : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter