গুদামের খাদ্যদ্রব্য পাচার

চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হোন

  যুগান্তর ডেস্ক    ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাচার করা খাদ্য উদ্ধার
ছবি: যুগান্তর

আবারও তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম থেকে খাদ্যদ্রব্য পাচারের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১২০ টন চাল, গম ও আটা পাচারকালে ওঁৎপেতে থাকা র‌্যাব সদস্যরা তা জব্দ করে।

ওএমএসে বিক্রির জন্য মজুদ এ চাল, গম ও আটা পাচারের সময় হাতেনাতে আটকের পাশাপাশি গুদামের ম্যানেজার হুমায়ুন কবীরকেও আটকের খবর ইতিবাচক।

পরে তাকে নিয়ে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে সরকারি ট্যাগ লাগানো অনেক বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এটাই প্রথম নয়, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটেছে। সরকারি গুদাম থেকে চাল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য পাচার নিয়মিতই হয়ে পড়েছে বলা যায়।

এ অবস্থায় সর্বশেষ পাচারের ঘটনায় আটককৃত ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।

জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসেও তেজগাঁও খাদ্য গুদামে চাল চুরির বড় ধরনের সিন্ডিকেট ধরা পড়ে। ওই সিন্ডিকেট এত বেশি বেপরোয়া ছিল, ৩০ কেজির একটি চালের বস্তা থেকে তারা ১০ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত চাল গায়েব করে ফেলত এবং সুবিধামতো সময়ে তা পাচার করত।

সর্বশেষ শনিবার রাতের পাচারের ঘটনা থেকে প্রমাণিত যে, সিন্ডিকেটের কালো হাত ভেঙে দেয়া সম্ভব হয়নি; বরং আগের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আটক ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মুখোশ উন্মোচন ও তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ সরকারি গুদাম থেকে কেবল এক-দু’জন কর্মচারীর পক্ষে চাল চুরির মতো বড় অপরাধ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে খালাসি, ওজনকারী, পরিদর্শক থেকে ম্যানেজার- সবারই কম-বেশি যোগসাজশ থাকে। এ কারণে খাদ্য গুদামে নিয়মিত নজরদারির উদ্যোগও নেয়া দরকার।

উদ্বেগের বিষয়, কেবল কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম থেকেই নয়, দেশের প্রায় সব সরকারি গুদাম থেকেই নিয়মিত জরুরি খাদ্যদ্রব্য চুরি ও পাচারের ঘটনা ঘটে থাকে। এ কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যে কোনো প্রয়োজনের সময় সরকারকে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।

দরিদ্র জনগণের অধিকার হরণ ও সরকারের বদনামের বিনিময়ে একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পকেট ভারি হলেও এক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক সাজার নজির না থাকা দুঃখজনক।

আমরা মনে করি, সরকারি খাদ্য গুদামের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য দুর্নীতিবাজ চাল চোর ও পাচারকারী তো বটেই, তাদের সঙ্গে যোগসাজশে অনিয়ম করা ব্যবসায়ীদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবেই সরকারি খাদ্যদ্রব্য চুরি-পাচার ঠেকানো যাবে, অন্যথায় নয়।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter