বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস

জীবনকে এগোতে দিন

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোহাম্মদ আবু নোমান

ছবি: সংগৃহীত

সংগ্রাম করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেঁচে থাকার নামই জীবন। জীবনে অনেক অনাকাক্সিক্ষত ও ভয়াবহ বিপর্যয় আসতেই পারে; তারও একটা সমাধান কোথাও না কোথাও আছে। আত্মহত্যা কখনই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনাই একেকটি ট্র্যাজেডি।

হতাশা, অভিমান, ব্যর্থতা, কুসংস্কার, অপমান, ঝগড়া, দাম্পত্য কলহসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সহপাঠী, বন্ধু, পরিবার ও সমাজ। আত্মহত্যা প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতি বছর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুসাইড প্রিভেনশন (আইএএসপি) বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনে ১০ সেপ্টেম্বর পালন করে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’।

বাংলাদেশেও দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করি একসাথে’।

কিশোর বয়স থেকেই যে কারও মনে নানা কারণে আত্মহত্যাপ্রবণতা বাসা বাঁধতে পারে। আশপাশের মানুষের উচিত তখন তামাশা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ না করে তাকে আপন করে নেয়া। সর্বাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে বিষণ্ণতা, মানসিক হতাশা, মেয়েদের প্রতি বখাটেদের উৎপাত, ভালোবাসায় ব্যর্থতা ও প্রতারণা, ক্ষোভ ইত্যাদি থেকে।

এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সহমর্মিতা, কাউন্সেলিং, হাসপাতাল ও বাসায় রেখে চিকিৎসার মাধ্যমে আত্মহত্যা থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

একটি আত্মহত্যার প্রভাব দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যক্তির পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের ওপর ছাপ রেখে যায়। যে আত্মহত্যা করে, সে শুধু তার নিজের ওপরই জুলুম করে না, এতে তার মা-বাবা, ভাইবোনসহ আত্মীয়-পরিজন সবাই কষ্ট পায়। আত্মহত্যা করার মতো চিন্তা কারও মাথায় এলে তার ভেবে দেখা উচিত- কত কষ্ট, স্নেহ, আদর, ভালোবাসা ও স্বপ্নের জাল বুনে মা-বাবা, ভাই-বোন তাকে বড় করেছে। তাদের মনে কষ্ট দেয়া সমীচীন নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রিভেনটিং সুইসাইড প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর বিশ্বে ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। সারা বিশ্বে প্রতি ২ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যার চেষ্টা এবং প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করতে সক্ষম হয়ে থাকে। বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আত্মহত্যা করে। দেশে আত্মহত্যা ঘটনার বেশিরভাগই ঘটে থাকে ফাঁসিতে ঝুলে, বিষপানে অথবা আগুনে পুড়ে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যারা আত্মহত্যা করেন তাদের ৭৫ শতাংশই মাদকাসক্ত।

বর্তমানে বেকারত্বের ফলে সৃষ্ট যুব সম্প্রদায়ের মানসিক অসুস্থতা আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। বেকারত্ব শুধু মানসিক অসুস্থতা নয়, এটি অবসাদসহ শারীরিক অসুস্থতারও কারণ হয়ে উঠছে। বেকারত্ব, আর্থিক সংকটের চাপ ও ধকল অনেক সময়ই মন সামলে উঠতে পারে না।

আর্থ-সামাজিক অবস্থান, পরিবারের অসহযোগিতা, অবহেলা, অকারণে দোষারোপ মানসিক অবসাদগ্রস্তদের আরও বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ করে তুলছে। শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই বাইপোলার ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের মতো মানসিক অবসাদজনিত কারণে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকছে যুবসমাজ। জীবনের নানা বাঁকে হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। দুঃখ-কষ্ট জীবনেরই অংশ। বিপদে হতাশ বা নিরাশ হওয়া সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থাহীনতার শামিল। তাই আত্মহত্যা নয়, জীবনকে এগোতে দিন।

মোহাম্মদ আবু নোমান : প্রাবন্ধিক

abunoman[email protected]