সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

ঋণের সুদহার অবিলম্বে সিঙ্গেল ডিজিটে আনা হোক

  সম্পাদকীয় ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর এবার বাংক ঋণের সুদের হার জরুরি ভিত্তিতে সিঙ্গেল ডিজিটে আনার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকই বছরে দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা করছে। অন্যদিকে উচ্চ সুদের কশাঘাতে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে ৮৯ শতাংশ পোশাক শিল্প। সংসদীয় কমিটির এ বক্তব্য যথার্থ।

বস্তুত ঋণের উচ্চ সুদহার দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের করুণ অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ডলারের উচ্চমূল্যসহ নানা কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে সন্দেহ নেই। বিনিয়োগ বাড়লে এবং নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। অর্থাৎ এর সঙ্গে শুধু সামগ্রিক অর্থনীতি নয়, সামাজিক পরিস্থিতির প্রশ্নও জড়িত। তাই ঋণের সুদহার নিরবচ্ছিন্নভাবে সিঙ্গেল ডিজিটে রাখা জরুরি।

শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং অর্থনীতির গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার ঘোষণা দেন ব্যাংক মালিকরা। এ জন্য অবশ্য তারা সরকারের কাছ থেকে কয়েক দফা সুবিধা আদায় করে নেন।

শুধু তাই নয়, বাজেটে ব্যাংক মালিকদের বেশি মুনাফার জন্য এ খাতের কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ স্বল্পসুদে সরকারি আমানতের নিশ্চয়তাও পেয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় সবাই আশা করেছিল, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হবে।

কিন্তু নানা সুবিধা নিয়েও কথা রাখেননি ব্যাংক মালিকরা। সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন এড়াতে নানা কৌশল ও শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। তারা ‘কম সুদে সরকারি আমানতের অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না’, ‘বেসরকারি আমানতও মিলছে না, সময় লাগবে’- এসব কথা বলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা মনে করি, শিল্পের স্বার্থে বিনিয়োগ ও ব্যাবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, সর্বোপরি দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

ঋণের সুদহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ খেলাপি ঋণ ও অনিয়ম। যথাযথ নিয়ম না মেনে ঋণ দেয়ার কারণে ব্যাংকগুলোকে সংকটে পড়তে হয়েছে। তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা গেলে খেলাপি ঋণও কমে আসবে। এর ফলে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে বজায় রাখা সহজ হবে।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ জায়গাটিতে দৃষ্টি দেয়া। ব্যাংকগুলোর গড়িমসি অব্যাহত থাকলে ব্যাংকগুলোকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ দিতে বাধ্য করা। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্যও সরকারপ্রধানের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter