ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি

মশা নিধন কার্যক্রমের ফল কী?

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সম্পাদকীয়

ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়লেও মশা নিধনে কর্তৃপক্ষ সাফল্যের পরিচয় দিতে পারছে না। যেহেতু মশা নিধনে প্রতি বছর বরাদ্দ বাড়ছে, এ প্রেক্ষাপটে সবার প্রত্যাশা ছিল মশার উপদ্রব কমবে।

কিন্তু বাস্তবতা হল, বরাদ্দ বাড়লেও মশার উপদ্রব থেকে রেহাই মিলছে না রাজধানীবাসীর। এবার রাজধানীতে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এ জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীতে ৯ দিনে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ছয় শতাধিক ব্যক্তি।

এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২ মাসে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন যথাযথ পদক্ষেপ নিলে অবস্থার এতটা অবনতি হতো না।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবার অন্য বছরের তুলনায় বেশি। যেহেতু দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্রুত নগরায়ণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ যেসব কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ে সেসব বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানানোর প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও এবার এ রোগের বিস্তার কেন এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করল তা খতিয়ে দেখা দরকার।

ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা কাউকে কামড়ালে ওই ব্যক্তি কয়েকদিনের মধ্যে এই জ্বরে আক্রান্ত হয়। এভাবে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। এই জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এতে রোগীর কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

গত কয়েক বছর ধরে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে এবং আক্রান্তদের সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।এ প্রেক্ষাপটে মশা নিধনে বরাদ্দকৃত অর্থ নয়ছয় হয় কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগ রয়েছে, মশক নিধনে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের বিভিন্ন এলাকায় কালেভদ্রে দেখা মেলে।

সাধারণত বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা খোলা পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দা প্রভৃতি স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। কাজেই নাগরিকরা সতর্ক থাকলে সহজেই এ মশার বিস্তার রোধ করা যায়।

ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও আক্রান্ত ব্যক্তির করণীয় কী, এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো দরকার। রাজধানীবাসীকে মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি দেয়ার দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনের। দুঃখজনক হল, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে। পরিস্থিতি আর কত ভয়াবহ আকার ধারণ করলে তাদের টনক নড়বে?