টিকিট কালোবাজারিদের দমন করুন

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মাহমুদ আহমদ

ছবি: সংগৃহীত

অন্যসব যানবাহনের চেয়ে রেল ভ্রমণের আনন্দটাই ভিন্ন। ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দ, যানজটবিহীন পথচলা সত্যিই আনন্দদায়ক। দেশে ও বিদেশে অসংখ্যবার ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। প্রতিটি ভ্রমণের মাঝেই যেন লুকিয়ে থাকে নানা অভিজ্ঞতার কথা। তবে এবারের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন। ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পালা।

পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ডোমার, চিলাহাটি কোনো স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল না। স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সব টিকিট চলে গেছে কালোবাজারিদের হাতে।

স্টেশন মাস্টারের কাছে টিকিট নেই, টিকিট পাওয়া যাচ্ছে চায়ের দোকানে বসে থাকা স্থানীয় লোকদের কাছে। ঢাকাগামী বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে আসল চিত্র ফুটে ওঠে।

প্রতিদিনই যে কালোবাজারি চক্রের লোকজন টিকিট হাতিয়ে নিচ্ছে তা স্টেশনের সবাই অবগত। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। এটি কি শুধু পঞ্চগড় জেলার সমস্যা? না, এ সমস্যা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে স্টেশনকেন্দ্রিক টিকিট কালোবাজারিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

যাত্রীদের কাজ থেকে আদায় করে নেয় অতিরিক্ত অর্থ। প্রতিটি জেলায় রেলের টিকিট কালোবাজারি চক্র সব সময় সক্রিয় থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, এদের হাত থেকে সাধারণ মানুষ কি কখনও মুক্তি পাবে না?

এ দেশে জন্মগ্রহণ করেছি বলে আমরা গর্ববোধ করি। খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি দেশের সুনাম নষ্ট করার জন্য একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় থাকে। এসব অসৎ চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বেশ কয়েকবার ভ্রমণ ও চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্য যাওয়া সুযোগ হয়েছে। সে দেশে কয়েক মাস আগেই রেলের অগ্রিম টিকিট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক ভ্রমণকারীর নাম, সিট নম্বর, বয়স- সবকিছুই টিকিটে উল্লেখ থাকে। শুধু তাই নয়, স্টেশনে এবং যে বগিতে সিট সেই বগির বাইরেও নামের তালিকা ঝোলানো থাকে।

টিকিট ছাড়া যাত্রীরা ভ্রমণ করছেন এমনটি কখনোই আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ ছাড়া টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কালোবাজারিদের কোনো সুযোগ নেই বললেই চলে, কারণ প্রতিটি টিকিটে পরিচয় উল্লেখ থাকে। একবার পাঞ্জাব থেকে কলকাতায় ফিরছিলাম আমরা ১০-১৫ জন।

আমাদের মধ্য থেকে একজন দিল্লি চলে গেলে তার টিকিটটি আমাদেরই আরেকজন বৃদ্ধ বয়সীর কাছে বিক্রি করে দেন। আমরা ভেবেছিলাম, টিকিট ও সিট যেহেতু আছে তাহলে আর সমস্যা কী। বেশ কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি এসে তার কাছে টিকিট চাইলেন। বললেন, আপনার পরিচয়পত্র দিন।

যেহেতু বাংলাদেশি, তাই পাসপোর্ট বের করে দেখালেন। টিকিটে যার নাম ও বয়স উল্লেখ আছে তার সঙ্গে মিল খুঁজে না পেয়ে তার কাছ থেকে টিকিটের দ্বিগুণ মূল্য জরিমানাস্বরূপ আদায় করলেন।

একজনের নামে টিকিট কেটে অন্যজন যাতে যেতে না পারে সে ক্ষেত্রে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, কারও আইডি কার্ডের সঙ্গে যদি টিকিট না মেলে তাহলে জরিমানা ছাড়া জেলও হতে পারে। আমাদের দেশে রেলের টিকিট পাওয়া যায় না, টিকিট পাওয়া যায় কালোবাজারির কাছে এটা শুনলে ভারতীয়রা হাসাহাসি করে।

বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। এত বড় দেশ, তারা যদি তাদের টিকিট কালোবাজারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? প্রায়ই টিকিট কালোবাজারিদের বিষয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয় আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ চক্রের সঙ্গে রেলওয়ের একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশের কথা উল্লেখ করা হয়।

তারপরও এ বিষয়ে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় বলে আমার জানা নেই। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সরকারের কাছে বিনীত নিবেদন, রেলের টিকিট কালোবাজারিদের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করুন।

মাহমুদ আহমদ : প্রাবন্ধিক

[email protected]