গুলশান লেক উন্নয়ন

প্রকল্প ব্যয় এত বৃদ্ধির রহস্য কী?

  সম্পাদকীয় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুলশান লেক উন্নয়ন

চারশ’ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে যদি পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা ও সন্দেহ দেখা দেয়াই স্বাভাবিক। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা-ই ঘটেছে।

যানজট নিরসনের নামে এ প্রকল্পের ব্যয় ৪১৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর এর পেছনে কাজ করছে শুরুতে লেক প্রকল্প বাস্তবায়নের যে উদ্দেশ্য ছিল তাতে পরিবর্তন বা পরিবর্ধন এনে প্রকল্পটির আকার বাড়ানোর উদ্যোগ। উল্লেখ্য, শুরুতে লেক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য ছিল লেক দখল ও দূষণমুক্ত করা; লেকের পানি ধারণক্ষমতা, প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে এর নান্দনিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ উন্নয়ন ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি করা। সম্প্রসারিত বা নতুন প্রকল্পে এসব উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়ানওয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থার আওতায় গুলশান-বনানী-বারিধারার যানজট নিরসন করা। অর্থাৎ বলা যায়, প্রকল্পটিকে পরিণত করা হয়েছে মেগা প্রকল্পে।

এ ক্ষেত্রে সংশয়ের কারণটি হল, প্রকল্পের বিশাল এই আকার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কোনোরকম উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়াই বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্টাডি রিপোর্টের ভিত্তিতে।

অর্থাৎ এত বড় একটি প্রকল্প অথচ সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতার নিয়ম মানা হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সন্দেহ আরও দানা বাঁধছে যখন দেখা যাচ্ছে, রাজউক লেক খনন ও উন্নয়ন কাজে এ পর্যন্ত ২৬০ কোটি টাকা ব্যয় করলেও লেকের কোনো উন্নয়নই দৃশ্যমান নয়।

অভিযোগ উঠেছে, সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়ন এবং লেক খননের নামে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করেছেন। আমরা মনে করি, মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এমনিতেই রাজউকের প্রকল্পের কাজের ইতিহাস ভালো নয়। তাদের প্রকল্পের সময় ও ব্যয় ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়।

এই সুযোগে বাড়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম। যেমন- হাতিরঝিল প্রকল্পে পাঁচ দফা সময় বাড়িয়েও এখনও কাজ শেষ করতে পারেনি রাজউক। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৭৬৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন দু’পাশের ১০০ ফুট খাল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের শুরুতেই প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় তিন গুণ। রাজউকের অন্যান্য প্রকল্পের চিত্রও প্রায় অভিন্ন।

কোনো প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ার জন্য কেবল সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতাই দায়ী নয়, প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যও এর পেছনে কাজ করে থাকে। কাজেই যখনই কোনো প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হবে, তখনই সেই প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ার কারণ তদন্ত করে বের করা উচিত। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিরও তদন্ত হওয়া দরকার। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের উন্নয়ন এবং এ এলাকার যানজট নিরসন হওয়া উচিত অবশ্যই। তবে এ কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যে ক্ষেত্রে বড় দুর্নীতির আশঙ্কা রয়েছে, সেক্ষেত্রে এটি আরও বেশি জরুরি।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter