উপেক্ষিত আদালতের নির্দেশ

অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকছে কীভাবে?

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকছে কীভাবে?

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো কতটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেক আগেই। দেশের প্রায় সর্বত্রই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এগুলোর একটি বড় অংশের নেই লাইসেন্স, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত উপকরণও। তারপরও সেগুলো দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসার নামে ব্যবসা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কথাই ধরা যাক। লাইসেন্সবিহীন এমন ১৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছিল এগুলো বন্ধ ঘোষণা করার।

কিন্তু আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এগুলোর ১২টি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দুটির একটি- ট্রমা স্পেশালাইজড হাসপাতালটি আদালতের নির্দেশ মেনে বন্ধ রাখা হয়েছে, অন্যটি- ক্রিসেন্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার আগেই সিলগালা করা হয়েছিল।

তবে এটিও স্থান বদল করে শ্যামলীতে রূপায়ণ টাওয়ারে নিউ ওয়েলকেয়ার নাম নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ১৪টির মধ্যে ১৩টিই কার্যত তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক যেহেতু লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না, তাই সেগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চাওয়া হবে।

আমাদের কথা হল, আদালতের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই তো সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চাওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন? তবে কি আলোচ্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পরিচালকরা আদালতের আদেশের তোয়াক্কা করছেন না?

এসব পরিচালকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া যাবে না মর্মে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ৮ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ বিষয়টি আইনের দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়ে গেছে। অথচ লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে কি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি সহজে হওয়ার নয়? চিকিৎসা খাত নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

দেশের বিপুল সংখ্যক সহজ-সরল নাগরিক অবৈধভাবে পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নেবে, এটা হতে পারে না। বস্তুত একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি যেমন-তেমনভাবে টাকা কামানোর লক্ষ্যে নাগরিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এই মরণখেলার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর তথা সরকারের উচ্চ মহলের নির্বিকার থাকার কোনো সুযোগ নেই। বন্ধ করতে হবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই অনাচার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter