আস্থা ফিরে পাক ডাক বিভাগ

  শফিউল আল শামীম ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আস্থা ফিরে পাক ডাক বিভাগ
ফাইল ছবি

প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আসার শত শত বছর আগেও মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করত ডাকের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক অতীতেও গ্রামবাংলার গৃহবধূরা প্রিয়জনের একটি চিঠির আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনতো।

একসময় গ্রামে সরকারি ডাকের পিয়ন এলে এলাকাজুড়ে হৈ-হুল্লোড় পড়ে যেত। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্রও এখন পাল্টে গেছে। তবুও সরকারি কাজকর্মে ডাক ব্যবস্থা এখনও চোখে পড়ার মতো।

দিল্লির প্রথম সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক সর্বপ্রথম উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেছিলেন। দেশের ডাক ব্যবস্থা ঘোড়ার ডাকেরই আধুনিক সংস্করণ। কিন্তু একসময়ের জনপ্রিয় এই মাধ্যমটির প্রতি সাম্প্রতিক সময়ে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতা মানুষকে বিষিয়ে তুলছে। জনগণ আর আস্থা রাখতে পারছে না এ বিভাগের ওপর।

সংবাদপত্রে ডাক বিভাগের অবহেলার চিত্র প্রায়ই চোখে পড়ে। বিশেষ করে সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রার্থীর কাছে পৌঁছায় পরীক্ষা শেষ হওয়ারও কিছুদিন পর। এ দেশে চাকরি যেখানে সোনার হরিণ, সেখানে একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারার বেদনা যে কত গভীর তা শুধু একজন ভুক্তভোগীই অনুধাবন করতে পারেন।

এ রকম অজস্র উদাহরণ স্থাপন করেছে ডাক বিভাগের চলমান উদাসীনতা। আর এর বলি হচ্ছে দেশের অনেক শিক্ষিত বেকার ও সাধারণ মানুষ- যারা একটি চাকরির আশায় তারুণ্যের বেশিরভাগ সময় নষ্ট করছেন। প্রশ্ন হল, এই অবহেলার দায় নেবে কে? সরকার, রাষ্ট্র, নাকি ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা?

সেবাই যার আদর্শ সেই ডাক বিভাগ আজ মুখথুবড়ে পড়েছে শুধু একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে সম্ভাবনাময় এই খাতটিকে। বিপরীতে মানুষ নির্ভরশীল হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর।

জানা যায়, গ্রাহক সংখ্যা কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ মানি অর্ডারের প্রতিযোগিতায়ও টিকতে পারছে না ডাক বিভাগ। সেবার মান দুর্বল হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক মানি অর্ডার নেমে এসেছে অর্ধেকে।

আধুনিক প্রযুক্তির দাপটের মাঝেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও সরকারি ডাক ব্যবস্থাই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নাগরিকদের আস্থা রয়েছে সরকারি ডাক ব্যবস্থার ওপর। অথচ আমাদের ডাক ব্যবস্থা দিন দিন তলিয়ে যাচ্ছে অতলে।

তাই অতীতের জনপ্রিয় এ খাতকে উদ্ধারের জন্য সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। অবহেলিত ডাক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে এ খাতকে নানাভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

দক্ষ জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ ডাক বিভাগে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে হবে। অন্যথায় মানুষ এ ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিমুখী হয়ে পড়বে। এর ফলস্বরূপ বর্তমান ও অদূর ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে এর মাশুল দিতে হবে।

শফিউল আল শামীম : শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×