ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল

রাষ্ট্রকে বাকস্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে

  সম্পাদকীয় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রকে বাকস্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে

সাংবাদিক সমাজের আপত্তি আমলে না নিয়েই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮-এর প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে জমা দিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা সম্পর্কে সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। আমরা মনে করি, আইনটির বিশেষত এ ছয়টি ধারা দেশের সংবিধান ও তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি ৩২ ধারা নিয়ে। ৩২(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের আওতাভুক্ত অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৩২(২) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি উপধারা ১-এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুনঃ সংঘটন করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বস্তুত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিষয়গুলোই চারটি ধারায় ভাগ করে এ আইনে রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এসব ধারায় মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে হয়রানির আশঙ্কা প্রবল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এসব ধারা সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে বর্ণিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতারও পরিপন্থী।

সংবিধানের এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং (খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’

তাই আমরা বলে আসছিলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস করার আগে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিশেষত সাংবাদিক প্রতিনিধি, শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মীদের মতামত নেয়া উচিত।

এ আইন নিয়ে আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের বৈঠকও হয়েছিল। সেখানে উভয় মন্ত্রীই উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সংসদীয় কমিটির সঙ্গেও সম্পাদক পরিষদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর প্রতিনিধিদের দুই দফা বৈঠক হয়েছে।

আইন চূড়ান্ত করার আগে আরও একবার বৈঠকে বসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়নি, অথচ সংসদীয় কমিটি আইনটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এতে সাংবাদিক সমাজ স্বভাবতই হতাশ ও মর্মাহত হয়েছে।

সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের প্রতি আমাদের আহ্বান- সংসদ অধিবেশনে আলোচনা করে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে সেই সব বিধান অপসারণ করা হোক, যেগুলোর অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ও হয়রানিমূলক কোনো আইনই কাম্য হতে পারে না। এ ধরনের আইন শেষ পর্যন্ত কালো আইন হিসেবেই পরিগণিত হয়ে থাকে। তাই রাষ্ট্রকে বাক্স্বাধীনতার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

jugantor-event-ডিজিটাল-নিরাপত্তা-আইন-91957--1

ঘটনাপ্রবাহ : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter