কোটা বিষয়ে সুপারিশ

দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক

  সম্পাদকীয় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোটা বিষয়ে সুপারিশ

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন স্কেলের নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে সব ধরনের কোটা বাদ দেয়ার সুপারিশ করেছে কোটা পর্যালোচনায় গঠিত ‘উচ্চ পর্যায়ের কমিটি’।

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের জন্য কমিটির সদস্যরা ধন্যবাদ পেতে পারেন। কারণ কোটা পদ্ধতির কারণে বিপুলসংখ্যক মেধাবীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়ার বিষয়টি অনেক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

কোটা পর্যালোচনা কমিটির এ সুপারিশকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তবে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আমরাও মনে করি যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া দরকার।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে অর্থাৎ ১৪ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরির নিয়োগে আগের নিয়মই বহাল থাকার প্রেক্ষাপটে এ গ্রেডগুলোর যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। এ আন্দোলন রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

নতুন করে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সম্প্রতি একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার কারণে মেধাবীরা কতভাবে বঞ্চিত হচ্ছে তা নিয়েও অনেক আলোচনা চলছে। সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে এ প্রক্রিয়া দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, এটাই স্বাভাবিক।

প্রতিবন্ধী ও সমাজে পিছিয়ে পড়া অংশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোটা প্রথা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটা রয়েছে। তাই এ প্রথা বিলুপ্ত করা ঠিক হবে না। বিদ্যমান বাস্তবতার নিরিখে কোটা নির্ধারণ করা হলে তা একদিকে যেমন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে, একইসঙ্গে যাদের জন্য কোটা প্রথা চালু রাখা হয়েছে, তাদের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে মেধাবীদের প্রতি গুরুত্ব বাড়ানোর বিকল্প নেই। চাকরি প্রত্যাশীদের আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। তাই তাদের দাবি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা যাতে আন্দোলনকারীদের ওপর অকারণে চড়াও না হয়, এ বিষয়টিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখতে হবে। আন্দোলনের নামে কেউ যাতে কোনোরকম নৈরাজ্য সৃষ্টি না করে, এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ক্ষেত্রে অহেতুক দেরি করা হবে না, এটাই প্রত্যাশা ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×