আইসিসির তদন্ত শুরু

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের বিচার হতেই হবে

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা
ছবি-সংগৃহীত

রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার হেগভিত্তিক আইসিসির সদস্য না হলেও দেশটিতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তের এখতিয়ার এ আদালতের রয়েছে বলে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে রুল জারি করেছিলেন বিচারকরা।

এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়েছিল- বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য হওয়ায় এ ধরনের উদ্যোগে আইনি কোনো বাধা নেই। বস্তুত এমন সিদ্ধান্তের পরই এ তদন্ত শুরু হল। আমরা আইসিসির এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

আইসিসির এ তদন্তের পথ ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পথ খুলতে পারে বলে আমরা মনে করি। জানা গেছে, আইসিসির প্রাথমিক এ তদন্তের পর একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে।

মূলত এরপরই অপরাধীদের অভিযুক্ত করা হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এমন অপরাধ করেছে, যার গভীরতা পরিমাপ করা সত্যিই কঠিন। কাজেই পাশবিক ও নৃশংস এ গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।

অন্যদিকে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনেও রাখাইনে গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে দেশটির শীর্ষ জেনারেলদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের চলমান অধিবেশনে প্রকাশ করা হয়। ৪৪৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন, হত্যা ও ধর্ষণসহ সব অপকর্মের নাটের গুরু যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট উঠে এসেছে। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে দশকের পর দশক ধরে শাসনক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে সেনাবাহিনী।

২০১৫ সালে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আংশিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানকার পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ আসন এখনও সেনা দখলে। তাছাড়া মন্ত্রিসভার তিন সদস্যও সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধন ও বিতাড়নের অভিপ্রায় থেকেই নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রয়োগের নামে ভয়ংকর এসব অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার যে সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন, আমরা তার সঙ্গে একমত পোষণ করি।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যা ঘটেছে, তা যে গণহত্যা- জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ঘরের ভেতর আটকে রেখে আগুন দেয়া হয়েছে। খুব কাছ থেকে গ্রেনেড হামলা ও গুলি করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

এছাড়া তাদের ওপর অমানবিকভাবে মারধর, ছুরিকাঘাত ও ধর্ষণসহ অন্যান্য নিপীড়ন করা হয়েছে, যা রুয়ান্ডার গণহত্যার সঙ্গে তুলনীয়। কাজেই এ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের কুশীলবদের বিচারের সম্মুখীন করার বিকল্প নেই।

মিয়ানমার থেকে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং এরই মধ্যে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যাকে সবচেয়ে বড় মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

এ দৃষ্টিকোণ থেকে আইসিসি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধন ও নিপীড়নের জন্য দেশটির সামরিক জান্তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে, এটাই প্রত্যাশা।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter