জিডিপি-মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি

বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান বাড়ানোরও পদক্ষেপ চাই

  যুগান্তর ডেস্ক    ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জিডিপি

২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যদিও প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যানের সঙ্গে কিছু অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক দ্বিমত পোষণ করলেও ফি বছর আমাদের প্রবৃদ্ধির হার যেভাবে বাড়ছে, সে হিসাবে একে অবশ্যই ইতিবাচক বলতে হবে।

তবে বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়া, কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান না হওয়া এবং রেমিটেন্স ও রফতানিতে বলার মতো অগ্রগতি না হয়েও প্রাক্কলিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়া প্রমাণ করে, আমাদের অর্থনীতিতে জবলেস গ্রোথ হচ্ছে।

এর মানে হল, কাক্সিক্ষত চাকরি ও কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি গত অর্থবছরের জিডিপির আকার (২৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা), দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমার (যথাক্রমে ২১ দশমিক ৮ ও ১১ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ ডলার হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

যে কোনো অর্থনীতির জন্যই জিডিপি প্রবৃদ্ধির অগ্রগতি বড় ধরনের সুসংবাদ। আমাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের মতো অধিক জনসংখ্যার দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান ছাড়া জবলেস গ্রোথ বৈষম্যকে আরও প্রকট করতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক জরিপ- ‘বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত অতিধনী বাড়ার তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ’ থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট। অতীতে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে, বিবিএসের অনেক প্রতিবেদনেই বাস্তবতার প্রতিফলন পুরোপুরি ঘটেনি।

যেমন, গত বছরের বেকারত্বের হারের প্রতিবেদন। প্রবৃদ্ধির প্রতিবেদনেও তেমন কিছু ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা এবং কোন্ কোন্ খাতে কেমন প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ করা দরকার।

প্রবৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন, সর্বস্তরের মানুষের কর্মসংস্থান এবং কাঙ্ক্ষিত মানের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা। তেমনটি করা গেলেই আমাদের উচ্চ প্রবৃদ্ধি কাজে আসবে, অন্যথায় তা কেবল তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার মধ্যেই সীমিত হয়ে থাকবে।

অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমানভাবেই হচ্ছে। এখন সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করে বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কেবল জবলেস গ্রোথ হয়ে মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে অর্থ জমে থাকলে তাতে গণমানুষের ভাগ্য তো বদলাবেই না, উল্টো বৈষম্য হবে পাহাড়সম। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দেয়ার বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×