বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট উদ্বেগ বাড়িয়েছে

  সাঈদ চৌধুরী ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাংক
ফাইল ছবি

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, শুধু পরিবেশ দূষণের কারণেই বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে ক্ষতি ৫৪ হাজার কোটি টাকা এবং মানুষের জীবনের ক্ষতি এর থেকেও বেশি।

বলা হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রায় দশগুণ বেশি মানুষ মরছে পরিবেশ দূষণের কারণে। ৮০ হাজার মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে!

মানুষের মৃত্যু আর আর্থিক ঝুঁকির সঙ্গে যে বিষয়টি উঠে আসেনি, এককথায় তা হল প্রাকৃতিক সম্পাদের অপব্যবহার ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।

শিল্পায়ন এবং অন্যান্য দূষণ সৃষ্টিকারী থেকে সৃষ্ট দূষণের কারণ ও প্রতিফল হিসাব করলে যা চোখের সামনে ভেসে উঠবে তা দেখে মনে হবে, অনেকটা অবহেলা করেই আমরা সব শেষ করে দিচ্ছি।

বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং অপরিকল্পিতভাবে শিল্পায়নের ফলে আজ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে দেশের পরিবেশ।

পানির মতো একটি প্রাকৃতিক স¤পদ কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন। কেমিক্যালের অপব্যবহার পানিকে করছে দূষিত।

সেই সঙ্গে লোকালয়ের বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা তো আছেই। বারবার বলা হচ্ছে, পরিবেশের সুরক্ষা না দিতে পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ঢাকার আশপাশের নদীগুলো এখন বিষের নহর। মাটির ব্যালেন্সিং ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার জন্য কম্পোজিট পানিই যথেষ্ট। বিভিন্ন ধরনের দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থ একত্রিত হয়ে মাটিকে যখন ক্ষতিগ্রস্ত করে, তখন এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভূগর্ভস্থ পানি।

মানুষের খাওয়ার পানির চাহিদা মেটাবে কে, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না রেখেই চলছে পানি হত্যার কাজ।

সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও দুর্নীতিবাজ কিছু মানুষের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে অনেক কাজই আর শেষ পর্যন্ত এগোয় না। পরিবেশকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে।

নদী বাঁচানোর তাগিদ দেয়ার চেয়েও নদীগুলোকে আগে থেকেই সংরক্ষণ করতে হবে। পরিবেশের কাজকে ত্বরান্বিত করতে পরিবেশ অধিদফতরকে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই।

ভারি শিল্প এলাকায় দ্রুত বাতাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন এবং তা বেশি দূষিত হতে থাকলে দূষণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারের পক্ষ থেকেই। সরকার এবং শিল্প মালিক সহাবস্থানে না এলে কখনই দূষণ কমানো যাবে না।

সবুজ শিল্পায়নের কথা বলা হলেও এখনও খুব বেশিসংখ্যক শিল্প সবুজ নয়। বায়োলজিক্যাল ইটিপি স্থাপনে আরও জোর দিতে হবে। সবচেয়ে বেশি দরকার প্রতিটি খালের সম্মুখ জোনে একটি বড় ধরনের সরকারি ইটিপি নির্মাণ করা।

কী করলে দূষণ কমানো যাবে সে বিষয়গুলো নিয়ে বেশি কাজ করতে হবে। আমরা একসময় উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হব। সেজন্য প্রয়োজন সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণমুক্ত শিল্পায়ন। আশা করি আরও বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে এ খাতে।

সাঈদ চৌধুরী : রসায়নবিদ ও সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি শ্রীপুর, গাজীপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×