সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট

বাস্তবায়নে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গড়িমসি কেন?

  সম্পাদকীয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট

সরকারি খাতের ৮টি ব্যাংক বেশিরভাগ ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনলেও বেসরকারি খাতের ৩৮টি ব্যাংক এখনও সুদহার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনেনি।

এ খাতের মাত্র দুটি ব্যাংক সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়েছে। চলতি মাসের প্রথমদিকে নেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

অথচ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা ছিল।

যারা সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামায়নি, তারা শুধু বিএবির সিদ্ধান্তই উপেক্ষা করেনি, অমান্য করেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং অর্থনীতির গতিশীলতা অব্যাহত রাখতে গত ১৪ মে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর পর সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার ঘোষণা দেন ব্যাংক মালিকরা। এজন্য অবশ্য তারা সরকারের কাছ থেকে কয়েক দফা সুবিধা আদায় করে নেন।

শুধু তাই নয়, বাজেটে ব্যাংক মালিকদের বেশি মুনাফার জন্য এ খাতের কর্পোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ স্বল্প সুদে সরকারি আমানতের নিশ্চয়তাও পেয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

কিন্তু নানা সুবিধা নিয়েও কথা রাখেননি ব্যাংক মালিকরা। সিদ্ধান্তটির বাস্তবায়ন এড়াতে নানা কৌশল ও শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

ঋণের উচ্চ সুদহার দেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ঘাটতি এবং ডলারের উচ্চমূল্যসহ নানা কারণে ব্যবসা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে এলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে সন্দেহ নেই। বিনিয়োগ বাড়লে এবং নতুন নতুন শিল্প গড়ে উঠলে বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ।

অর্থাৎ এর সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনীতির প্রশ্ন জড়িত। তাই ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা জরুরি। ঋণের সুদহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ খেলাপি ঋণ ও অনিয়ম।

যথাযথ নিয়ম না মেনে ঋণ দেয়ার কারণে ব্যাংকগুলোকে সংকটে পড়তে হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা গেলে খেলাপি ঋণও কমে আসবে।

এর ফলে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে বজায় রাখা সহজ হবে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এ জায়গাটিতে দৃষ্টি দেয়া। ব্যাংকগুলোর গড়িমসি অব্যাহত থাকলে তাদেরকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে ঋণ দিতে বাধ্য করা। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter