রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতায় হার

লড়াকু মানসিকতা অটুট থাকুক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

বিতর্কিত লিটন দাসের সেই আউট। ছবি-ইএসপিএন ক্রিকইনফো

২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র দুই রানে হার। চার বছর পর ২০১৬ সালের একই টুর্নামেন্টেও ভারতের কাছে সামান্য ব্যবধানে হার। সর্বশেষ শুক্রবার দুবাইতে এশিয়া কাপ-২০১৮-এর ফাইনালেও সেই ভারতের কাছে রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতায় হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হল অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীর।

প্রত্যাশা ছিল, তৃতীয়বারের চান্স কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলবে টাইগার বাহিনী। বস্তুত, অধ্যবসায়-ভদ্রতা ও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার গুণের কারণে মাশরাফির হাতে একটি শিরোপা ছিল প্রত্যাশিতই।

সে আশাতেই দেশ-বিদেশের লাখো বাংলাদেশি ক্রিকেটভক্তের চোখ ছিল দুবাইতে। ওপেনিংয়ে চমক হয়ে আসা মেহেদি মিরাজ ও লিটন দাসের দূরন্ত সূচনা আশার পারদ ঊর্ধ্বমুখী করেও ছিল; কিন্তু হুড়মুড় করে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়াই মূলত আমাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে।

তারপরও ২২২ রানের সামান্য পুঁজি নিয়ে বোলাররা ভারতকে চাপে ফেলে শেষ বল পর্যন্ত নিয়ে স্নায়ুর পরীক্ষায় ফেলা ক্রিকেট দলের লড়াকু মানসিকতারই প্রমাণ। এ মানসিকতা তরুণ সমাজ, এমনকি পুরো দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্রিকেট-খেলাধুলাসহ জীবনের সর্বস্তরে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে না বলে আশা করা যায়।

এশিয়া কাপের ফাইনালে দলের অন্যতম দুই ভরসা- সাকিব ও তামিমকে ছাড়া পাকিস্তানকে হারানো এবং পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলে ফাইনালে ওঠা আমাদের ক্রিকেটে উন্নতির লক্ষণ। কিন্তু উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্রফি ঘরে তুলতে না পারা দুঃখজনক।

ক্রিকেটে বড় কোনো ট্রফি বলতে চলতি বছর এশিয়া কাপেই ভারতকে হারিয়ে নারী ক্রিকেট দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফলে ছেলেদের দিকে দেশবাসী চাতকপাখির মতো তাকিয়ে ছিল। এটা সত্য, ক্রিকেট দলগত খেলা এবং দলবদ্ধভাবে সবাই জেগে উঠতে না পারলে সাফল্য ধরা দেবে না।

আমাদের আবেগ মানতে না চাইলেও লিটন দাসের একা ১২১ রানের বিপরীতে যদি বাকি ১০ জনের কাছ থেকে ১০১ রান আসে, তবে দলীয় সাফল্য না আসাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি বড় টুর্নামেন্টে, এমনকি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও আম্পায়ারের ভুলের শিকার কেবল বাংলাদেশকেই কেন হতে হবে- খতিয়ে দেখে দায়িত্বশীল মহলের প্রতিবাদ জানানোর সময় এসেছে।

বিভিন্ন সময় ভুলের শিকার হয়েও আমাদের ছেলেরা ধৈর্য ধরে ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা’র মান রাখছে। এ অবস্থায় আইসিসির উচিত কোনো দলই যেন অবিচারের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা। তিন উইকেটে ভারতের কাছে হারলেও মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সি, খেলোয়াড়দের অদম্য মানসিকতা, বিশেষত বোলারদের দায়িত্বশীল বোলিং সবাইকে ছুঁয়ে গেছে।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশবাসীর মধ্যে এ মানসিকতা ছড়িয়ে পড়ুক এবং খেলাধুলাসহ সব ক্ষেত্রে তারুণ্য এগিয়ে যাক- এটাই প্রত্যাশা।