গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

রাজনীতি থেকে দূর করতে হবে অপশক্তি ও অপচিন্তা

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রেনেড হামলা

নারকীয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।

উল্লেখ্য, মামলার ৫২ আসামির মধ্যে ইতিমধ্যে অন্য মামলায় তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামি ছিল ৪৯ জন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

এ হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী। আর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভয়াবহ সেই ঘটনার ১৪ বছর এক মাস ২০ দিন পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশবাসীর অপেক্ষার অবসান ঘটল।

তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাই ছিলেন গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনাকারীদের টার্গেট, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পৃথিবীতে এমন কলংকজনক ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বলেই আমাদের ধারণা। অনেক আগেই এ ঘৃণ্য ঘটনার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি। মূলত এর পেছনে কাজ করেছে নানা স্বার্থবাদী অপচিন্তা। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে এ সংক্রান্ত মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে নানাভাবে। ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছে অনেক তথ্য।

জজ মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দ্বিতীয় দফার তদন্তে বেরিয়ে আসে হামলার নীলনকশা।

২১ আগস্টের ভয়াবহ সেই গ্রেনেড হামলার আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, দেশবাসীর সামনে তা উদ্ঘাটিত হওয়া জরুরি ছিল। দেরিতে হলেও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে এ হামলার পরিকল্পনাকারী কারা ছিল; কারা অংশ নিয়েছিল হামলায়।

যদিও এটাই চূড়ান্ত রায় নয়; এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল হবে। বস্তুত আপিল বিভাগের রায়ের মধ্য দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত মামলা চূড়ান্ত পরিণতি পাবে।

আমরা মনে করি, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, দায় তাদেরই, সমগ্র রাজনৈতিক দলের নয়- সবার মধ্যে এ উপলব্ধিও থাকা উচিত। দলের বিশেষ ব্যক্তি বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা মানে সমগ্র দলের সংশ্লিষ্টতা নয়- এ উপলব্ধি থেকে দলীয় হাইকমান্ডের উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

২১ আগস্টের হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল, এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই। রাজনীতি ভয়াবহভাবে দুর্বৃত্তায়িত হলেই এমনটি ঘটা সম্ভব। এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি খুবই জরুরি ছিল।

আদালতের রায় আমাদের বোধোদয় ঘটাবে, একইসঙ্গে চেতনার অলিন্দে ন্যায়পরায়ণতা, পরমত সহিষ্ণুতা ও সত্য-সুন্দরের মশাল প্রজ্বলিত করবে বলেই বিশ্বাস। তবে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদেরও সজাগ হতে হবে।

আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াও দলের ভেতর থেকে প্রতিহিংসার উপাদান দূর করতে হবে। বস্তুত গণতন্ত্রের স্বার্থেই আমাদের রাজনীতি থেকে দূর করতে হবে সব অপশক্তি ও অপচিন্তা।

ঘটনাপ্রবাহ : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×