অক্সফামের সূচকে বাংলাদেশ

শ্রেণীবৈষম্যের চিত্রটি হতাশাজনক

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অক্সফাম

গত দু’বছর ধরে ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম সিআরআই (কমিটমেন্ট টু রিডিউসিং ইনইকুয়ালিটি) সূচক প্রকাশ করছে। ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতির এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান শোচনীয় বলা যায়।

গত বছরের সিআরআই সূচকে বিশ্বের ১৫২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৮তম। এবার ১৫৭টি দেশের মধ্যে অবস্থান ১৪৮তম। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে এক বছরে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যে বাংলাদেশের অবস্থানের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অক্সফামের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে লাগামহীন বৈষম্য কমাতে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়া। আবার এই অঞ্চলের ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। অক্সফাম সিআরআই সূচকে তিনটি মানদণ্ড ব্যবহার করে থাকে- সামাজিক খাতে সরকারের ব্যয়, করনীতি এবং শ্রমিকদের অধিকার ও মজুরি।

দেখা যাচ্ছে, করনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা ভালো (১০৩তম) হলেও বাকি দুটোতে অবস্থান একেবারে তলানিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর আইনে নারীদের ক্ষেত্রে আয়করে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়, যা প্রশংসনীয়; কিন্তু শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে ৪৭ বছর আগে। সুদীর্ঘকাল পরও এ দেশে যে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য প্রকট, অক্সফামের সূচক থেকে তা আরেকবার প্রমাণিত হল। বস্তুত দেশে প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হলেও শ্রেণীতে শ্র্রেণীতে বৈষম্যের চিত্রটি চরম হতাশাজনক।

অথচ স্বাধীনতার পরপরই প্রণীত দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির একটি হিসেবে সমাজতন্ত্রকে ধরা হয়েছিল। বস্তুত সংবিধানে সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা থাকলেও দেশে এমন এক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য না কমে বরং তা বেড়েই চলেছে।

শ্রমিক শ্রেণী তার ন্যায্য মজুরি পাচ্ছে না একদিকে, অন্যদিকে ধনিক শ্রেণী শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে ফুলে-ফেঁপে উঠছে দিনকে দিন। দেশের সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে।

দেশে বিরাজমান বৈষম্য কমাতে হলে সামাজিক খাতে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। দ্বিতীয় যে শর্ত তা হল, শ্রমিক শ্রেণীকে তার ন্যায্য মজুরি বুঝিয়ে দেয়া। এটা সত্য, দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্র কিছু ব্যয় করছে।

কিন্তু এর পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। শ্রমিক শ্রেণী, বিশেষত গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন হলেও কাঙ্ক্ষিত মজুরি নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে, দেশে শ্রেণী-বৈষম্য কমাতে হলে অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন এবং এই সংস্কার হতে হবে সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×