তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত যুবশক্তি দেশকে এগিয়ে নেবে

  মো. ওসমান গনি শুভ ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তি

বর্তমান সময়টিকে বলা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ ব্যক্তিরাই তাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশকে উন্নত করতে হলে সেদেশের যুবসমাজকে আইটি ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। আইটিসমৃদ্ধ যুবসমাজ চাকরির বাজারে বিশেষ সুবিধা লাভ করে থাকে।

২০০৪ সালে ফেসবুক আবিষ্কার হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক অনন্য প্রবাহমানতা লক্ষ করা যায়। ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সহজেই জানা যায়। চলমান ঘটনাগুলো, সহিংসতা, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিভিন্ন ধরনের ইস্যু সম্পর্কে জানা যায় খুবই সহজে। ফেসবুকে অনেকদিন দেখা না হওয়া বন্ধুর সঙ্গে ভার্চুয়ালভাবে ভিডিও চ্যাট ও মেসেজিং করা যায়।

গুগল আবিষ্কার হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হয়। সৃষ্টি হয় বিভিন্ন অজানা জিনিস সম্পর্কে জানার স্পৃহা। পৃথিবীর যে কোনো জিনিস সম্পর্কে সার্চ দিলে গুগল তা খুব সহজ ও কম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করে আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়। শিক্ষাক্ষেত্রেও গুগলের অবদান খাটো করে দেখার মতো নয়।

বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা, এসাইনমেন্ট কন্টেন্ট, স্লাইডসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায় মুহূর্তের ভেতর। তাই মানুষ গুগলে এত আসক্ত। যুবসমাজ গুগল ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বর্তমানে ওয়াইফাই সুবিধা থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছে ক্ষণিকের মধ্যেই। তারা বিভিন্ন বিষয়ে জানছে এবং এই বিস্তারিত জ্ঞান তাদের বহির্বিশ্বের মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করছে।

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারীর সংখ্যা কয়েক কোটি। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- হোয়াটস অ্যাপ, ভাইভার, টুইটার, মেসেনজার ইত্যাদির ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কম নয়। এই বিপুলসংখ্যক জনশক্তি তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত হচ্ছে খুব দ্রুত।

তবে তথ্যপ্রযুক্তিতে যে শুধু সুবিধাই আছে তাই নয়, এর অনেক নেতিবাচক দিকও আছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে, করছে নানা অপকর্ম।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং কক্সবাজারের রামুতে অবস্থিত বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দিরে আগুন দিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমেই। কাজেই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সতর্কও থাকতে হবে।

বর্তমানে আমাদের দেশ বিভিন্ন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে বাজেটে। দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক মানসম্মত ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব। এসব ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইটি ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠছে।

তাছাড়া জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের কম্পিউটার ল্যাবের মাধ্যমে যুবকরা পাচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। এভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত যুবশক্তিই এগিয়ে নেবে আমাদের দেশকে।

মো. ওসমান গনি শুভ : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×