পেশার ঈর্ষা
jugantor
পেশার ঈর্ষা

  মাহবুবা হোসেইন  

১১ মে ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিচ্চিটাকে দেখলেই রাগে বিসমিল্লাহ খাঁর গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়, দাঁত কিড়মিড় করে মনে মনে গালি পাড়ে, ‘শালা বাইনচ্যুৎ, উঁউঁউঁ, পুরান পাগলে ভাত পায় না, নতুন পাগলে ধরে বায়না, শালার শালা’, তারপর পুরো রাগ মতির বদলে গিয়ে পড়ে মোতালেবের ওপর, ‘তুই হালায় গোয়াইনের মটরঘাট থন রাতারবন তক টলারে লোক পারাপার করস-কর-এই ফেওটারে আবার লগে লইছস কেরে?’

আজও একদল ভ্রমণকারীর সঙ্গে মতিকে নিয়ে মোতালেবকে আসতে দেখে তার গা রিরি করে উঠল, মনে মনে সে খিস্তি শুরু করে, ‘দেখসৎনি কত্ত বড় সাহস, আজগাও আবার ওইটারে আনছে।’

পেশার খাতিরে বিসমিল্লাহ রাগটাকে ভেতরে ঠেলে দিয়ে দলটাকে ক্যাপচার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাদের একে একে নৌকায় তুলতে থাকে।

সেই সুযোগে মোতালেব মতিকে কোসা নৌকায় তুলে দিতে গেলে সে রাগ আর পুষে রাখতে পারে না, খেক করে খেকিয়ে উঠে, ‘এই এই এইটারে তুলস কে, আমার নৌকায় জাগা হইত না।’

মোতালেবের হাসি পায়, ওইটুক মানুষের আর কতটুকু জায়গা লাগে, এত বড় নৌকায় হের জায়গা হইত না? বিসমিল্লার অন্তরের জ্বলুনিটা জানে বলে তার আরও মজা লাগে, শিশু গলায় গান গেয়ে মতি যত পর্যটকদের মাতিয়ে তুলে বিসমিল্লাহ খাঁর জ্বলুনিটা মোতালেব ততই তাড়িয়ে উপভোগ করে।

সে হাসতে হাসতে বলে, চাচা এমন কর কে যাকনা সাবগ লগে ছোট মানুষ।

বিসমিল্লাহ মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘হ ছোট মানুষ’- জ্বলুনির তুলনায় কথাটা ওজনদার না হওয়ায় রাগটা তার পড়ে না তাই কিছুদূর ফিরে গিয়ে আবার এগিয়ে এসে মুখ ঝামটা দিয়ে হাত নেড়ে বলে, ‘নানা জায়গা হইত না, তুই জানস না নৌকায় আটজনের বেশি নেওয়ার নিয়ম নাই, ওরে লইয়া আমি জরিমানা খাই আরকি।’

মোতালেব মনে মনে হাসে কিছুক্ষণ আগেই তো দশজনের একটা ট্রিপ নিয়া ঘুরে আসলা আমি দেখি নাই না? কিন্তু মুখে কিছু বলে না বরং নরম হয়ে অনুরোধ করে, ‘লওনা চাচা কিছু হইত না’

- না কিছু হইত না?

বিসমিল্লাহ রাগে কটমটিয়ে মোতালেবের দিকে তাকিয়ে থাকে, পর্যটকদের সামনে সৌজন্য বজায় রাখতে হয় নইলে কখন সে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত, নিরুপায় শুধু মনে মনে গজরায় ‘এখানে তোর স্বার্থটা কি আমি বুঝি না? আমার নাক দিয়া সিনকি পরে আরি- ভাবস কি তুই।

পর্যটকদের একজন এগিয়ে এসে বিসমিল্লাহকে অনুরোধ করে, ‘ছেলেটাকে তুলে নিন না ওর গানের গলা এত সুন্দর, ট্রলারের শব্দে গানের বারটা বেজে গেছে, শুনতে পাড়িনি, এই শান্ত পরিবেশে ওর গান শুনতে শুনতে যাব খুব ভালো লাগবে।

বিসমিল্লাহ রাগের খোলস থেকে জোর করে বেরিয়ে এসে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে ‘না স্যার এ শান্ত পরিবেশের শান্তিটাই আসল। আপনি নিঝ্ঝুম বসে থাকবেন, সব অন্তর দিয়া নিস্তব্ধতাকে উপলব্ধি করবেন, গান শুনবেন পাতার মরমরের, নৌকা আর বৈঠার কিচির কিচির কিইইইর, দূরের পাখির কুটুস কুটু কুউউউউর, মানুষের গান এখানে কি শুনবেন? শান্তি নষ্ট খালি।’

রাতারগুলের ভেতরে ট্রলার নিষেধ থাকায় কোসা নৌকায় পর্যটকদের ঘুরিয়ে এনে বিসমিল্লাহ ভাড়াসহ যে টিপস পেত মোতালেব ট্রলার চালিয়ে তার অর্ধেকও পেত না। ট্রলারের ভাড়া সরকার নির্দিষ্ট কিন্তু টিপসের তো কোন সীমা নির্দিষ্ট নাই- খুশি হয়ে যে যা দেয়। মোতালেবের কাজে কোনো টিপস নাই, টিপসের সম্পর্ক তো বিনোদনের সঙ্গে, সে শুধু খেয়া পারাপার করে, সেই কাজে আর বিনোদন কী? বিসমিল্লার আয়-ইনকাম তার চেয়ে ভালো কিন্তু তাতে তার কোনো ভাগ নাই- এ কারণে আগে মোতালেবের সূক্ষ্ম একটা জ্বলুনি ছিল, কিন্তু দাবার ঘুটি ইদানীং পাল্টে গেছে, এখন বরং বিসমিল্লাই সেই জ্বালায় জ্বলে। বিসমিল্লার এখন নিজের হাত নিজেরই কামড়াতে ইচ্ছা করে, মানুষ নিজের পায়ে এমন করেই নিজে কুড়াল মারে?

রাতার পাড়ায় বিসমিল্লা আর মতিদের পাশাপাশি ঘর। মতির বিধবা মা হাসি বিসমিল্লাকে বড় ভাইয়ের মতো মানে, তাদের সংসারে খেটেখুটে দেয়। বিসমিল্লাহ এবং তার বউ ফেলানিও তার প্রতিদান দিতে ভুলে না, মতিদের সুখ সুবিধায় দেখেশুনে রাখে। মতির বয়স দশ হলেও তার গানের গলা খুব ভালো।

বিসমিল্লা এতদিন বনের ভেতরে হিজল আর কিরিচগাছের সন্নিবিষ্ট ছায়ায় শান্ত নিঝ্ঝুম পানিতে নৌকা চালাতে চালাতে নৌকা আর বৈঠার কিচির কিচির শব্দের সঙ্গে ভ্রমণপিপাসুদের বাড়তি বিনোদন দিতে কিছু একটার খুব অভাব বোধ করছিল, মতির মিষ্টি গলা তার সেই অভাব দূর হয়ে গেল, সে মতিকে নৌকায় তুলে নিল।

কিছুদূর গিয়ে সে মতিকে বলত- ধর রে মতি একটা গান ধর, আর সাহেবদের বলত- স্যার এ নিঝ্ঝুম শান্ত নিস্তব্ধ পরিবেশে গান শুননের মতো আনন্দ আর নাই।

মতি তখন গান ধরে দিয়েছে, মাধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা... কোন হারনে বালবাসায় দাম ন দিলা

তারপর, পুরোনো স্মৃিতগুলা, পুরোনো স্মৃতিগুলা, অতীতের কথাগুলা মনে মনে রাইখ... আমি তো বালা না বালা লইয়া থাইক, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা, ভ্রমণকারীরা সত্যি খুশি হয়ে উঠত, নেমে যাবার আগে এক মুঠি টাকা মতির ছোট হাতে গুঁজে দিত, তার কতটুকু মতির মা পেত আর কতটুকু যেত বিসমিল্লার পকেটে তার হিসাব কি আর মতি রাখতে পারে?

একদিন বিসমিল্লা অবাক হয়ে দেখে সেই হিসাব রাখতে শুরু করেছে গোয়ানের ট্রলার মাস্টার মোতালেব, ইদানীং সে মটরঘাট থেকেই মতির কাস্টমার জোগাড় করে দেয়, সঙ্গে মতির আয়-ইনকামের হিসাবও রাখে। আজও একটা দল পাকড়াও করে পিচ্চিটাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে, কেমন রাগ লাগে?

মতি এখনও ছোট তার টিপসের আধিকাংশ বখরা অনায়াসে মোতালেব হাতিয়ে নিতে পারে, বিসমিল্লা খাঁর পরাজয়টা শুধু এখানেই নয় মতিকে নৌকায় নিলে তার আয় কমে যায়, মতির মিষ্টি গানের গলায় অভিভূত হয়ে নামবার সময় ভ্রমণকারীরা সব বকশিশ তার হাতেই গুঁজে দিয়ে যায়, বিসমিল্লার হাতে পড়ে শূন্য। আজ সে অনড় কিছুতেই মতিকে সেই সুযোগ দেবে না।

মোতালেবও দেখল এখানে সময় নষ্ট করে লাভ নেই, সুবিধা হবে না। আরেকটা দলকে একটু দূরেই নৌকা ঠিক করতে দেখে সে সেদিকে দৌড়াল, এখনো দলটায় গানের ফেউ লাগেনি, মতিকে যদি সেই দলে ভিড়িয়ে দেওয়া যায়, অন্যেরা কায়দা করার আগেই দলটাকে বাগিয়ে নিতে হবে। স্বার্থের দৌড় এমনি, কেউ বাগাবার আগেই কায়দা করে বাগিয়ে নিতে হয়। কায়দা কানুনের ঘোর-প্যাঁচ না কিছু বুঝেই মোতালেবের সঙ্গে মতিও দৌড় লাগাল। সে ছোট মানুষ কি করে বুঝবে যাহা বাহাত্তর আসলে তাহাই তিয়াত্তর?

একদিন হয়তো তাও সে বুঝে যাবে তখন হিসাবের সমীকরণটা কী হবে কে জানে।

পেশার ঈর্ষা

 মাহবুবা হোসেইন 
১১ মে ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পিচ্চিটাকে দেখলেই রাগে বিসমিল্লাহ খাঁর গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়, দাঁত কিড়মিড় করে মনে মনে গালি পাড়ে, ‘শালা বাইনচ্যুৎ, উঁউঁউঁ, পুরান পাগলে ভাত পায় না, নতুন পাগলে ধরে বায়না, শালার শালা’, তারপর পুরো রাগ মতির বদলে গিয়ে পড়ে মোতালেবের ওপর, ‘তুই হালায় গোয়াইনের মটরঘাট থন রাতারবন তক টলারে লোক পারাপার করস-কর-এই ফেওটারে আবার লগে লইছস কেরে?’

আজও একদল ভ্রমণকারীর সঙ্গে মতিকে নিয়ে মোতালেবকে আসতে দেখে তার গা রিরি করে উঠল, মনে মনে সে খিস্তি শুরু করে, ‘দেখসৎনি কত্ত বড় সাহস, আজগাও আবার ওইটারে আনছে।’

পেশার খাতিরে বিসমিল্লাহ রাগটাকে ভেতরে ঠেলে দিয়ে দলটাকে ক্যাপচার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাদের একে একে নৌকায় তুলতে থাকে।

সেই সুযোগে মোতালেব মতিকে কোসা নৌকায় তুলে দিতে গেলে সে রাগ আর পুষে রাখতে পারে না, খেক করে খেকিয়ে উঠে, ‘এই এই এইটারে তুলস কে, আমার নৌকায় জাগা হইত না।’

মোতালেবের হাসি পায়, ওইটুক মানুষের আর কতটুকু জায়গা লাগে, এত বড় নৌকায় হের জায়গা হইত না? বিসমিল্লার অন্তরের জ্বলুনিটা জানে বলে তার আরও মজা লাগে, শিশু গলায় গান গেয়ে মতি যত পর্যটকদের মাতিয়ে তুলে বিসমিল্লাহ খাঁর জ্বলুনিটা মোতালেব ততই তাড়িয়ে উপভোগ করে।

সে হাসতে হাসতে বলে, চাচা এমন কর কে যাকনা সাবগ লগে ছোট মানুষ।

বিসমিল্লাহ মুখ বাঁকিয়ে বলে, ‘হ ছোট মানুষ’- জ্বলুনির তুলনায় কথাটা ওজনদার না হওয়ায় রাগটা তার পড়ে না তাই কিছুদূর ফিরে গিয়ে আবার এগিয়ে এসে মুখ ঝামটা দিয়ে হাত নেড়ে বলে, ‘নানা জায়গা হইত না, তুই জানস না নৌকায় আটজনের বেশি নেওয়ার নিয়ম নাই, ওরে লইয়া আমি জরিমানা খাই আরকি।’

মোতালেব মনে মনে হাসে কিছুক্ষণ আগেই তো দশজনের একটা ট্রিপ নিয়া ঘুরে আসলা আমি দেখি নাই না? কিন্তু মুখে কিছু বলে না বরং নরম হয়ে অনুরোধ করে, ‘লওনা চাচা কিছু হইত না’

- না কিছু হইত না?

বিসমিল্লাহ রাগে কটমটিয়ে মোতালেবের দিকে তাকিয়ে থাকে, পর্যটকদের সামনে সৌজন্য বজায় রাখতে হয় নইলে কখন সে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত, নিরুপায় শুধু মনে মনে গজরায় ‘এখানে তোর স্বার্থটা কি আমি বুঝি না? আমার নাক দিয়া সিনকি পরে আরি- ভাবস কি তুই।

পর্যটকদের একজন এগিয়ে এসে বিসমিল্লাহকে অনুরোধ করে, ‘ছেলেটাকে তুলে নিন না ওর গানের গলা এত সুন্দর, ট্রলারের শব্দে গানের বারটা বেজে গেছে, শুনতে পাড়িনি, এই শান্ত পরিবেশে ওর গান শুনতে শুনতে যাব খুব ভালো লাগবে।

বিসমিল্লাহ রাগের খোলস থেকে জোর করে বেরিয়ে এসে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে ‘না স্যার এ শান্ত পরিবেশের শান্তিটাই আসল। আপনি নিঝ্ঝুম বসে থাকবেন, সব অন্তর দিয়া নিস্তব্ধতাকে উপলব্ধি করবেন, গান শুনবেন পাতার মরমরের, নৌকা আর বৈঠার কিচির কিচির কিইইইর, দূরের পাখির কুটুস কুটু কুউউউউর, মানুষের গান এখানে কি শুনবেন? শান্তি নষ্ট খালি।’

রাতারগুলের ভেতরে ট্রলার নিষেধ থাকায় কোসা নৌকায় পর্যটকদের ঘুরিয়ে এনে বিসমিল্লাহ ভাড়াসহ যে টিপস পেত মোতালেব ট্রলার চালিয়ে তার অর্ধেকও পেত না। ট্রলারের ভাড়া সরকার নির্দিষ্ট কিন্তু টিপসের তো কোন সীমা নির্দিষ্ট নাই- খুশি হয়ে যে যা দেয়। মোতালেবের কাজে কোনো টিপস নাই, টিপসের সম্পর্ক তো বিনোদনের সঙ্গে, সে শুধু খেয়া পারাপার করে, সেই কাজে আর বিনোদন কী? বিসমিল্লার আয়-ইনকাম তার চেয়ে ভালো কিন্তু তাতে তার কোনো ভাগ নাই- এ কারণে আগে মোতালেবের সূক্ষ্ম একটা জ্বলুনি ছিল, কিন্তু দাবার ঘুটি ইদানীং পাল্টে গেছে, এখন বরং বিসমিল্লাই সেই জ্বালায় জ্বলে। বিসমিল্লার এখন নিজের হাত নিজেরই কামড়াতে ইচ্ছা করে, মানুষ নিজের পায়ে এমন করেই নিজে কুড়াল মারে?

রাতার পাড়ায় বিসমিল্লা আর মতিদের পাশাপাশি ঘর। মতির বিধবা মা হাসি বিসমিল্লাকে বড় ভাইয়ের মতো মানে, তাদের সংসারে খেটেখুটে দেয়। বিসমিল্লাহ এবং তার বউ ফেলানিও তার প্রতিদান দিতে ভুলে না, মতিদের সুখ সুবিধায় দেখেশুনে রাখে। মতির বয়স দশ হলেও তার গানের গলা খুব ভালো।

বিসমিল্লা এতদিন বনের ভেতরে হিজল আর কিরিচগাছের সন্নিবিষ্ট ছায়ায় শান্ত নিঝ্ঝুম পানিতে নৌকা চালাতে চালাতে নৌকা আর বৈঠার কিচির কিচির শব্দের সঙ্গে ভ্রমণপিপাসুদের বাড়তি বিনোদন দিতে কিছু একটার খুব অভাব বোধ করছিল, মতির মিষ্টি গলা তার সেই অভাব দূর হয়ে গেল, সে মতিকে নৌকায় তুলে নিল।

কিছুদূর গিয়ে সে মতিকে বলত- ধর রে মতি একটা গান ধর, আর সাহেবদের বলত- স্যার এ নিঝ্ঝুম শান্ত নিস্তব্ধ পরিবেশে গান শুননের মতো আনন্দ আর নাই।

মতি তখন গান ধরে দিয়েছে, মাধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা... কোন হারনে বালবাসায় দাম ন দিলা

তারপর, পুরোনো স্মৃিতগুলা, পুরোনো স্মৃতিগুলা, অতীতের কথাগুলা মনে মনে রাইখ... আমি তো বালা না বালা লইয়া থাইক, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা, ভ্রমণকারীরা সত্যি খুশি হয়ে উঠত, নেমে যাবার আগে এক মুঠি টাকা মতির ছোট হাতে গুঁজে দিত, তার কতটুকু মতির মা পেত আর কতটুকু যেত বিসমিল্লার পকেটে তার হিসাব কি আর মতি রাখতে পারে?

একদিন বিসমিল্লা অবাক হয়ে দেখে সেই হিসাব রাখতে শুরু করেছে গোয়ানের ট্রলার মাস্টার মোতালেব, ইদানীং সে মটরঘাট থেকেই মতির কাস্টমার জোগাড় করে দেয়, সঙ্গে মতির আয়-ইনকামের হিসাবও রাখে। আজও একটা দল পাকড়াও করে পিচ্চিটাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে, কেমন রাগ লাগে?

মতি এখনও ছোট তার টিপসের আধিকাংশ বখরা অনায়াসে মোতালেব হাতিয়ে নিতে পারে, বিসমিল্লা খাঁর পরাজয়টা শুধু এখানেই নয় মতিকে নৌকায় নিলে তার আয় কমে যায়, মতির মিষ্টি গানের গলায় অভিভূত হয়ে নামবার সময় ভ্রমণকারীরা সব বকশিশ তার হাতেই গুঁজে দিয়ে যায়, বিসমিল্লার হাতে পড়ে শূন্য। আজ সে অনড় কিছুতেই মতিকে সেই সুযোগ দেবে না।

মোতালেবও দেখল এখানে সময় নষ্ট করে লাভ নেই, সুবিধা হবে না। আরেকটা দলকে একটু দূরেই নৌকা ঠিক করতে দেখে সে সেদিকে দৌড়াল, এখনো দলটায় গানের ফেউ লাগেনি, মতিকে যদি সেই দলে ভিড়িয়ে দেওয়া যায়, অন্যেরা কায়দা করার আগেই দলটাকে বাগিয়ে নিতে হবে। স্বার্থের দৌড় এমনি, কেউ বাগাবার আগেই কায়দা করে বাগিয়ে নিতে হয়। কায়দা কানুনের ঘোর-প্যাঁচ না কিছু বুঝেই মোতালেবের সঙ্গে মতিও দৌড় লাগাল। সে ছোট মানুষ কি করে বুঝবে যাহা বাহাত্তর আসলে তাহাই তিয়াত্তর?

একদিন হয়তো তাও সে বুঝে যাবে তখন হিসাবের সমীকরণটা কী হবে কে জানে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন