খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে মাশরাফি

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাশরাফি,

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তিনি। সোমবার থেকেই মাশরাফি মর্তুজার নামের পাশে যুক্ত হতে পারে সংসদ সদস্য! তার আগেই এ এক নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন লড়াইয়ের মাঠ। যেখানে শুধু জয়-পরাজয়েই সবকিছু সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েই বিশ্ব ক্রিকেটে অনন্য এক নজির সৃষ্টি করেছেন। সারা বিশ্বেই সাবেক ক্রিকেটারদের সংসদ সদস্য হওয়া সাধারণ ঘটনা; কিন্তু মাশরাফি যে এখনও চলতি খেলোয়াড়।

ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ে তার সঙ্গী থাকেন ১০ সতীর্থ। বহুবার তিনি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে জয় এনে দিয়ে আনন্দে ভাসিয়েছেন। ক্রিকেট দিয়েই দেশের আপামর জনসাধারণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন; হয়ে উঠেছেন তরুণদের আদর্শ। রাজনীতির মাঠে মাশরাফির বাহুলগ্নে হাজার হাজার তরুণ। পাশে অনেকে থাকলেও এবার লড়াইটা তার একারই। রোমাঞ্চ জাগানিয়া মাশরাফির লক্ষ্য আপাতত নড়াইল সদরের একাংশ এবং লোহাগড়া উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের নাগরিকদের তুষ্ট করা। যেখানে রয়েছেন ৩ লাখ ১৭ হাজার ভোটার।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নড়াইল-২ আসন থেকে। প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই মাশরাফি ব্যস্ত ছিলেন ক্রিকেট নিয়ে। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয়েছে ১৪ ডিসেম্বর; কিন্তু সিরিজ শেষেও তার নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারেননি। কারণ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট বেশ ভোগাচ্ছিল। সিরিজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছিলেন, তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। সুস্থ হয়েই নির্বাচনী এলাকায় যেতে বলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফি নড়াইলে যান ২২ ডিসেম্বর; নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে। তাতে প্রচারের সময় কমে গেলেও একটি জায়গায় মাশরাফি বাকি সাত প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পেয়েছেন। ভোটারদের কাছে নিজেকে চেনাতে হয়নি তাকে।

রাজনীতির মাঠে যাওয়ার পর অনেক অভিজ্ঞতাই মাশরাফির নতুন হয়েছে। ক্রিকেট মাঠের জার্সি-ট্রাউজার ছেড়ে এবার পুরোদস্তুর পাঞ্জাবি-জিন্স পরনে, হাতে লিফলেট। ক্রিকেটের মাঠের জয় নয়, চাইতে হচ্ছে ভোট। কদিন ধরে রাত নামতেও নিস্তার হয়নি, স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কেটেছে নানা বৈঠকে। এর সঙ্গে সঙ্গেই আবার দেখা করতে হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে। দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কাঁধও যে চওড়া হচ্ছে, সেই প্রমাণও দিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী মাশরাফি প্রচারের শুরুতে প্রাধান্য দিয়েছেন প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে। মোটরসাইকেল নিয়ে সভাগুলোতে হাজির হলেও কখনই সেটাকে শোডাউন হিসেবে দেখাতে চাননি তিনি।

এছাড়া প্রচারের শুরুর দিন থেকেই একটি কথা আপ্তবাক্যের মতো উচ্চারণ করে গেছেন মাশরাফি- ‘নির্বাচনী প্রতিপক্ষের কেউ যেন কোনোভাবে আঘাত না পায়, অপদস্থ যেন না হয়, কোথাও যেন বাধার মুখে না পড়ে।’ শুধু নিজের কর্মীদের নয়, স্থানীয় প্রশাসনকেও মাশরাফি অনুরোধ করেছেন প্রতিপক্ষের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে শুরু থেকেই টেলিফোনে আশ্বস্ত করেন, তার প্রচার নির্বিঘ্ন করতে সম্ভব সবরকম সহায়তা করবেন। মাশরাফি এলাকায় বড় কোনো প্রলোভন দেখাননি। তবে বলেছেন, সংসদে যেতে পারলে এলাকায় সব জায়গাতেই সমান উন্নয়ন হবে।

মাশরাফির স্ত্রী সুমনা হক সুমির জন্মস্থান লোহাগড়া। এ উপজেলার সব জায়গায় প্রচারের সময় মাশরাফি পেয়েছেন ‘জামাই আদর’। বক্তৃতায়, স্লোগানে স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে আমজনতা, সবার মুখে মুখে শুধু ‘জামাই’। নির্বাচনী প্রচারণার সময় জামাইয়ের জন্য এলাকার শাশুড়িরা শীতের পিঠা বানিয়ে খাইয়েছেন মাশরাফিকে। অনেক জায়গায় পিঠা না খেয়ে তিনি মঞ্চেই উঠতে পারেননি। আরও একটি সুবিধা পেয়েছেন মাশরাফি, এলাকার প্রায় পাঁচশ’ খেলোয়াড় ও সংগঠক তার জন্য ভোট চেয়ে প্রচারণায় নামেন।

এখনও অবশ্য অনেক কিছুর প্রমাণ করার বাকি। মাশরাফি সবসময়ই বলে এসেছেন, রাজনীতির মাঠে তিনি একদমই নতুন; তার এখনও অনেক কিছু শিখতে হবে। নড়াইলে সেই শেখার প্রথম পাঠটা একদম মন্দ হচ্ছে না বৈকি! ক্রিকেট বলে আন্তর্জাতিক ময়দানে মাশরাফির অভিষেক হয়েছে ২০০১ সালে। ভোটের মাঠে জিততে পারলে ক্রিকেট মাঠের নেতা ৩৫ বছর বয়সী মাশরাফির এবার অভিষেক হবে দেশের আইনসভায়ও। রোববার সেই পরীক্ষায় পাস করার লড়াইয়ের জন্য চলছে দিনরাত প্রস্তুতি।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×